• ‘মাথায় এখনও তৃণমূল ঢুকে আছে?’ জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শনে গিয়ে আধিকারিককে ধমক মন্ত্রীর
    এই সময় | ১৮ জুন ২০২৬
  • সিউড়ি পুরসভার জনকল্যাণ শিবিরের ‘অব্যবস্থা’ দেখে বেজায় ক্ষুব্ধ রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। প্রচারে গাফিলতির অভিযোগ তুলে পুরসভার ফিনান্স অফিসারকে কার্যত ধমক দিলেন তিনি। বুধবার দুপুরে সিধোকানহু মঞ্চে আয়োজিত এই জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শনে গিয়ে খারাপ ব্যান্ডিং নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে জগন্নাথ বলেন, ‘আপনার মাথায় এখনও তৃণমূল ঢুকে আছে নাকি?

    সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে ১৫ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার। সিউড়ি পুরসভাতেও বসেছে ক্যাম্প। এক ছাতার তলায় প্রায় ৫৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। গত তিন দিন ধরেই বীরভূমের সেই সব শিবির পরিদর্শন করছেন জগন্নাথ। এ দিন তিনি গিয়েছিলেন সিউড়ি পুরসভার সিধো-কানহু মঞ্চে। এখান থেকে ১৩, ১৪, ১৫ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।

    পরিদর্শন শিবিরে ঢুকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন জগন্নাথ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যানার ঠিক মতো লাগানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘এতগুলো শিবির ঘুরলাম, কিন্তু এখানেই সবচেয়ে খারাপ ব্র্যান্ডিং হয়েছে। দুঃখের বিষয় হলো, এটা আমার বিধানসভা কেন্দ্র।’ সিউড়ি পুরসভার তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন তিনি।

    সিউড়ি পুরসভার ফিনান্স অফিসারকে ডেকে কার্যত ধমক দেন জগন্নাথ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এ ভাবে কেউ ব্যানার টাঙায়? প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর ছবি হজম করতে পারছেন না?’ ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘এখনও আপনাদের মাথায় তৃণমূল ঢুকে আছে?’ সরাসরি তিনি বলে দেন, ‘এ ভাবে শিবির চালানো যাবে না।’

    পরে সাংবাদিক সম্মেলনে বীরভূমের ১০টি পাথরের চেক গেট থেকে এক মাসে ৭২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে জানান তিনি। জগন্নাথ বলেন, ‘সামনের মাসে এটা ১০০ কোটিতে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ আগের সরকারের জমানায় এই টাকার বেশিরভাগটাই সরকারি কোষাগারের বদলে তৃণমূলের পার্টি ফান্ডে জমা পড়ত বলেও অভিযোগ করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কম দামে বালি দেওয়ার ব্যাপারে আগামী মাসেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)