• কোয়ার্টারের বদলে কুপ্রস্তাব! তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে থানায় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী মহিলা কর্মী
    এই সময় | ১৮ জুন ২০২৬
  • রূপক মজুমদার

    ঘরের বদলে দিতে হবে ‘সঙ্গ’। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অস্থায়ী মহিলা কর্মীকে এমনই কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের কর্মী সংগঠনের সদস্য আদিত্য সরকারের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, তিনিও ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই কর্মী। মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মহিলা। তার পর থেকেই আদিত্য পলাতক। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হস্টেলে ‘ডেলি ওয়েজ লেবার’ হিসেবে কাজ করেন। কিছু ব্যক্তিগত কারণে নিজের বাড়িতে থাকতে সমস্যা হচ্ছে তাঁর। এ দিকে হস্টেলের একটি কোয়ার্টার খালি পড়ে রয়েছে। তা জানার পরেই আদিত্যর কাছে আবেদন করেন তিনি।

    আদিত্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল্ডেন জুবিলি বিল্ডিংয়ের জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট। একই সঙ্গে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট শ্যামাপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় আবার বর্ধমান পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। তিনিই আদিত্যকে কোয়ার্টার নিয়ে শেষ কথা বলার দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন বলে FIR-এ অভিযোগ করেছেন মহিলা। সেই কারণে ফাঁকা কোয়ার্টারে থাকার আবেদন জানিয়ে আদিত্যর দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।

    বর্ধমান থানা থেকে অভিযোগ জানিয়ে বেরিয়ে এসে ক্ষোভে ও অপমানে ফেটে পড়েন মহিলা। তাঁর অভিযোগ, ‘একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই চেয়ে বার বার আদিত্যর কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে কুপ্রস্তাব দেয়। স্পষ্ট জানায়, ওর সঙ্গে সহবাস করলে তবেই কোয়ার্টার পাওয়া যাবে, না হলে নয়।’

    বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই এই ঘটনা ঘটেছিল বলে দাবি। কিন্তু চাকরি চলে যাওয়ার ভয়ে তিনি এতদিন মুখ খোলার সাহস পাননি বলে জানিয়েছেন মহিলা। অপমানের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে কয়েকদিন আগেই গোল্ডেন জুবিলি বিল্ডিংয়ের সামনে আদিত্যকে জুতোপেটা করতেও গিয়েছিলেন তিনি। শেষমেশ দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ হন।

    ঘটনার পর থেকে কার্যত ‘নিখোঁজ’ হয়ে গিয়েছেন আদিত্য। তাঁর মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে এক তরুণী নিজেকে অভিযুক্তর ভাগ্নি পরিচয় দিয়ে ফোন ধরে বলেন, ‘মামা বাড়িতে নেই। বিজেপি মিথ্যা অভিযোগ করেছে বলে ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’ শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছে যে তাঁর মাইমা আর মেয়ে বাইরে বেরোলেও লোকজন টিটকিরি দিচ্ছে, এমনকী ডিম ছুড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি ওই তরুণী। তাঁর কথায়, ‘মামা কোথায় আছে জানি না, বাড়িতে ফোন রেখে গিয়েছে, তাই ধরেছি।’

    গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার খোঁজে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তল্লাশি। তাঁর সম্ভাব্য অবস্থান জানতে একাধিক জায়গায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

  • Link to this news (এই সময়)