আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল ও পর্যটক-বান্ধব করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। এদিনের এই বৈঠকে পর্যটন দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন, নতুন পর্যটন কেন্দ্রের সম্ভাবনা, পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পর্যটন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করলেন মন্ত্রী।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, "আজ পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত সকল স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে মতামত বিনিময় করলাম। পর্যটন দপ্তর ঠিক করেছে, নিজস্ব লক্ষ্যকে প্রতিষ্ঠিত করার। লক্ষ্য পূরণ করার জন্য পাঁচটি পলিসি স্টেক হোল্ডারদের সামনে তুলে ধরেছি। পর্যটনকে সর্ব সাধারণের জন্য গড়ে তোলা, পূর্বের প্রদেশ দ্বার হিসেবে বাংলাকে পর্যটনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার, পর্যটনের সঙ্গে সকল ক্ষেত্রের সংযুক্তিকরণ। এই মূল বিষয়ের উপর ভিত্তি করে আমরা কাজ করব আগামী দিনে। প্রীতি ট্যুরিজম এর সঙ্গে যুক্ত সংস্থার তথ্য সংগ্রহ করে ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরি হবে। আগামী ৩০ তারিখ এর মধ্যে দপ্তরে সকল সংস্থার ডেটা জমা করতে হবে। আমরা চাই না কোনও পর্যটক নেতিবাচক ধারণা নিয়ে ফিরুক। পর্যটন দপ্তরের ডেটা বেসে থাকা সংস্থাগুলিকে প্রমোট করব আমরা। তারাই বাংলায় নতুন পর্যটক আনার ক্ষেত্রে বাহকের কাজ করবে।'
তাঁর কথায়, 'বাংলায় আসছি বলে চলে যাওয়া যায়। বাংলায় যাতে আবার বারবার ফিরে আসা যায় সেটা দেখতে হবে। ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে সংস্থাগুলিকে। প্রেজেন্টেশন জমা করতে হবে দপ্তরে তার ভিত্তিতে কাজ হবে। এক বছর তিন বছরের ভিত্তিতে আগামীদিনে কাজ হবে। তিন মাস পর আবার হবে রিভিউ মিটিং। দপ্তরে যোগদানের পর সময় কম, তাই সবটা গোছানো, সকল আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলে হবে কাজ।'
শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, 'এবার দুর্গা পুজোয় গ্লোবাল ট্যুরিজম সার্কিটের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিয়ে কীভাবে বেঙ্গল ট্যুরিজমকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়া যায় সেকারণে চমক থাকছে এবার। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে গ্লোবাল দুর্গাপুজো হিসেবে যাতে তুলে ধরা যায় সেই কাজ এবার দুর্গাপুজোয় আমরা করব। সারা বিশ্ব জুড়ে যারা প্রবাসী হিসেবে দুর্গা পুজো করে তাদেরকে যুক্ত করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রের সহযোগিতায় সেই কাজ এগোবে।'
তাঁর কথায়, 'নিজের রাজ্যকে নিজে জানার প্রবণতা বাড়াতে হবে এরাজ্যের মানুষের। পর্যটন দপ্তর সেই কাজ করবে। আশা রাখি প্রধানমন্ত্রীর মতো ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি যদি দেশের পর্যটকদের দেশে আটকে রাখতে পারে বিদেশের তুলনায় এক্ষেত্রে সেটাকে কার্যকরীভাবে বাংলায় কীভাবে কাজে লাগানো যায় সেটা দেখব। পর্যটন ব্যবহার করতে গিয়ে আমরা পরিবেশ ধ্বংস হতে দেব না। টি ট্যুরিজম মানে চা বাগানের মধ্যে বিরাট কিছু তৈরির পরিকল্পনা হচ্ছে তেমন ছোট করেও তৈরির ভাবনা চলছে।'
তিনি জানিয়েছেন, 'রেড রোডে যখন কার্নিভাল হচ্ছে তখন উত্তরবঙ্গের মানুষ ভাসছে, এটা বলেছিলাম বলে আমার উপর হামলা হয়। তাই কার্নিভাল হবে কিনা সেটা ক্যাবিনেটের সময় এই বিষয় উপস্থাপিত হবে এবং তারপর একসঙ্গে মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সুন্দরবন নিয়ে আমাদের বড় পরিকল্পনা আছে। সুন্দরবনের ইকো সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ট্যুরিজম আমরা নিশ্চিত করব। এবিষয়ে ভাবনা আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা মারফত নিশ্চয় প্রকাশ করব।'
মন্ত্রীর বক্তব্য, 'বাংলার শক্তিকে দুর্বল ভাববেন না। যে বাংলা শিক্ষা-সংস্কৃতি-কৃষ্টিতে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছে সেই বাংলা সকল ক্ষেত্রে তার পুরোনো গৌরব ফেরাতে কাজ করবে। বাংলার ট্যুরিজম কোথায় দাঁড়িয়ে আছে সেই নিয়ে পেপার রেডি করতে বলা হয়েছে। ট্যুরিজম বা দুর্গা পুজো করা নিয়ে কোনও দুর্নীতি আগে হয়ে থাকলে মেল মারফত জানান নিশ্চিত তার শাস্তি হবে। প্রশাসন কাজ করছে।'