হকার উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের! সওয়ালে সেই বিকাশ
আজকাল | ১৮ জুন ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই হকার উচ্ছেদ নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রেলের জমিতে থাকা দীর্ঘদিনের স্টল বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে। সেই মামলাতেই এবার বড় নির্দেশ দিল আদালত। কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, আপতত চলতি মাসে আর উচ্ছেদ করা যাবে না হকারদের।
বুধবার ছিল এমন ২৫টি মামলার সামগ্রিক শুনানি। যাদবপুর, হাওড়া, কোন্নগর, ডানকুনি-সহ বিভিন্ন জায়গায় হকার উচ্ছেদ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে একাধিক মামলা৷ সেই সমস্ত মামলার শুনানি হল আজ৷ যদিও দিন সাতেক আগেই হকারদের স্টলে ভাঙচুর করার সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। বিচারপতি হীরন্ময় ভট্টাচার্য এদিন আরও একবার জানিয়ে দিলেন, আপাতত এই মাসে আর হকার উচ্ছেদ করা যাবে না।
নতুন সরকার শপথ গ্রহণের পরেই হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদম থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় রেলের জায়গায় থাকা হকারদের উচ্ছেদ শুরু হয়৷ এর বিরুদ্ধে বামেরা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তা বিশেষ কাজে লাগেনি৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এ নিয়ে কবিতাও লিখেছেন৷ মাত্র দিনকয়েক আগে হকার উচ্ছেদ ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় যাদবপুর স্টেশন চত্বর৷ তবে,আপাতত সেই উচ্ছেদের বিষয়েই কিছুটা স্বস্তি পেলেন হকাররা।
আর হাইকোর্টের এই নির্দেশের পরই ফেসবুকে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী লেখেন, “হকার উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিকাশ স্যার...।” এরপরই মুষ্ঠিবদ্ধ হাতের ছবি দেন নওশাদ। হাই কোর্টে ঠিক কী বলেছেন বিকাশ? আদালতে সওয়াল-জবাব বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “যেভাবে হকারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে তাতে তাঁদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। কেন্দ্র বা রাজ্য কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। জীবনের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্র তাঁদের শত্রু হিসেবে আচরণ করতে পারে না। অথচ এখানে হঠাৎ বুলডোজার পাঠিয়ে ভেঙেচুরে সব শেষ করে দেওয়া হচ্ছে।”
এখানেই শেষ নয়, বিকাশের সংযোজন, “প্রতি রাতে কোনও না কোনও জায়গায় লোকজন রাত পাহারা দিয়ে বসে থাকছেন। তাতেও বুলডোজার হামলা থামানো যাচ্ছে না। এদিনের শুনানিতে বিকাশ ভট্টাচার্য সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের কথাও উল্লেখ করেছেন। সেই রায় উল্লেখ করে বিকাশ বলেন, “যখন কেউ রেলের জমিতে বসে পড়ছে, তখন তাঁকে বাধা না দিলে দুই-তিন দশক পর তাঁকে উচ্ছেদ করা যাবে না, এটা সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণেই আছে।”' সব সওয়াল-জবাব শেষে আপাতত এ মাসের জন্য উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ দিল হাইকোর্ট।