রান্না কাজে ব্যস্ত মা সেই ফাঁকেই...ছটপট করছে বোন, বাঁচাতে গিয়ে শেষ দিদিও,মর্মান্তিক ঘটনা ময়নায়
News18 বাংলা | ১৮ জুন ২০২৬
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না থানা এলাকায় মর্মান্তিক পরিণতি হল একই পরিবারের দুই বোনের। বাড়ির অদূরেই এদিন সকালবেলা খেলা করছিল দুই বোন। সেই সময় ঘনিয়ে এল বিপদ। অকালেই ঝরে গেল দুই প্রাণ। এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ পুরো এলাকা। অসাবধানতার জেরে ঘটে গেল এক চরম মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পুকুরের জলে ডুবে মৃত্যু হল দুই নাবালিকা সহোদরার। একজনকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল অপরজনেরও। বুধবার সকালে হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না থানার অন্তর্গত মথুরাপুর গ্রামে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালবেলা বাড়ির সামনেই খেলা করছিল পূজা ও পায়েল। সেই সময় তাদের মা ঘরের ভেতর রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরেই ছিল একটি পুকুর। খেলাধুলো করার ফাঁকেই কোনওভাবে পুকুরের ধারে চলে যায় তারা।
প্রাথমিক অনুমান, খেলতে খেলতে অসাবধানতাবশত প্রথমে ছোট বোন, চার বছর বয়সী পায়েল পুকুরের গভীর জলে পড়ে যায়। বোনকে জলে হাবুডুবু খেতে দেখে তাকে বাঁচানোর জন্য কোনও কিছু না ভেবেই পুকুরে ঝাঁপ দেয় ৯ বছরের দিদি পূজা কায়েত। দু’জনেই পুকুরের জলে তলিয়ে যায়।
এদিকে বেশ কিছুক্ষণ বাচ্চাদের কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে মা ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। চারিদিকে সন্ধান করেও যখন তাদের হদিস মিলছিল না, তখন বাড়ির লোকের সন্দেহ গিয়ে পড়ে সামনের পুকুরটির ওপর। এরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুরের জলে নেমে তল্লাশি শুরু করেন। কিছুক্ষণের চেষ্টায় পুকুর থেকে একে একে দুই বোনের নিথর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে, সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ময়না থানার পুলিশ। দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান হয়।
মাত্র কয়েক মিনিটের অসতর্কতায় চোখের পলকে দুটি তাজা প্রাণ এভাবে ঝরে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার। মথুরাপুর গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে স্তব্ধতা। এ বিষয়ে ওই দুই বোনের মামা শম্ভু দাস বলেন, ” পাড়ায় একটা বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান ছিল। বোন বাড়িতে রান্না করছিল। বাড়ির উঠোনেই দুই ভাগ্নি খেলা করছিল। প্রথমে তাদের মা টিভির সামনে বসিয়ে দিয়ে রান্না করতে যায়। কিন্তু সেই ফাঁকেই বাচ্চা দুটো বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। খেলতে খেলতে ছোট ভাগ্নি জলে পড়ে যায়। তাকেই বাঁচাতে জলে নামে বড় ভাগ্নি দু’জনেই জলে তালিয়ে যায়। পুকুরের জল থেকে দু’জনকেই উদ্ধার করা হয়।” ওই দুই নাবালিকার বাবা ভিন রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক। বাড়িতে দাদু-ঠাকুমা থাকলেও তারা অসুস্থ। আর এদিন সকালবেলা রান্না কাজে ব্যস্ত ছিল মা। সেই ফাঁকেই ঘটে গেল এই মর্মান্তিক পরিণতি।