: একসময় মাংস কেটে চলত সংসার। কিন্তু রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসে রাতারাতি বদলে যায় ভাগ্যের চাকা। মাংস বিক্রেতা থেকে কোটিপতি ব্যবসায়ী হয়ে ওঠা বোলপুরের সেই নাসির শেখের বাড়িতে এবার হানা দিলেন রাজ্য সরকারের পণ্য ও পরিষেবা কর দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। আজ বুধবার বীরভূমের বোলপুর শহরের গুরুপল্লী এলাকায় থাকা অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ এই ব্যবসায়ীর রাজকীয় বাসভবনে হানা দেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক মহলের অভিযোগ, বিগত তৃণমূল জমানায় কেতুগ্রাম, বোলপুর-সহ বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ টোল প্লাজা চালিয়েই নাসিরের এই উল্কা সদৃশ উত্থান। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তৎকালীন প্রভাবশালী নেতাদের আশীর্ভাদ ধন্য হওয়ার সুবাদেই বীরভূমের বুকে একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন নাসির। আর সেই টোল আদায়ের একটা বড় অংশ পৌঁছে যেত তৎকালীন শাসক শিবিরের প্রভাবশালী নেতাদের ঘরেও। যার বিনিময়ে নাসিরের সম্পত্তি ও প্রতিপত্তি বেড়ে চলেছিল রকেটের গতিতে।
তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবং নতুন সরকারের কড়া নির্দেশিকায় ইতিমধ্যেই বীরভূমের সেই সমস্ত অবৈধ টোল প্লাজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি জেসিবি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নাসিরের বন্ধ থাকা বেআইনি টোল প্লাজাগুলিও। তবে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হলেও নাসিরের পাহাড় প্রমাণ সম্পত্তি কীভাবে হল, তা নিয়ে নজরদারি জারি রেখেছিল প্রশাসন।
আজ বুধবার দুপুরে আকস্মিকভাবেই গুরুপল্লী এলাকায় নাসিরের বাড়িতে পৌঁছে যান রাজ্য জিএসটি দফতরের আধিকারিকরা। কম সময়ের মধ্যে আটটি ডাম্পার, একাধিক ভারী ট্রাক এবং রাজকীয় অট্টালিকা কীভাবে তৈরি হল, মূলত সেই সংক্রান্ত ব্যবসায়িক নথিপত্র ও ট্যাক্স ফাঁকির তদন্ত করতেই এই হানা বলে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে। আধিকারিকরা দীর্ঘক্ষণ নাসিরের আয়ের উৎস ও সম্পত্তির বিবরণ খতিয়ে দেখেন। যদিও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে তদন্তকারীরা সরাসরি মুখ খুলতে চাননি।
রাজ্যের পালাবদলের পর বীরভূম জুড়ে এই ধরনের রকেটের গতিতে উত্থান হওয়া কোটিপতি ব্যবসায়ীদের উপর যে নতুন সরকার ও প্রশাসন কড়া নজর রাখছে, নাসিরের বাড়িতে এই হানা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই অভিযানের পর স্বভাবতই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বোলপুর-সহ গোটা বীরভূম জেলা জুড়ে।