গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ, পুরী থেকে পাকড়াও করল আনন্দপুর থানার পুলিশ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৮ জুন ২০২৬
গ্রেপ্তার করা হলো কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে। ওড়িশার পুরীতে প্রথমে আটক করা হয় তৃণমূল কাউন্সিলরকে। তোলাবাজি, হুমকি দেওয়া-সহ একাধিক ধারায় এফআইআর রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুরী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে। বেশ কিছুদিন ধরে ফেরার ছিলেন এই জনপ্রতিনিধি। বুধবার আনন্দপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং হুমকির অভিযোগ রয়েছে। কদিন আগেই সুশান্ত ঘোষের গাড়ির চালককে ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই গাড়িতে সুশান্ত থাকলে পুলিশের চোখে ধূলো দিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তখন থেকেই সুশান্তের উপর নজর রাখছিল পুলিশ। এদিন ধরা পড়ে গেলেন।
এদিকে কদিন আগেই মেয়র পারিষদ পদ ছেড়ে দিয়ে নিজেকে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা প্রমাণ করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। তারপর থেকে বেপাত্তা হয়ে যান তিনি। অথচ তিনি যে ধোয়া তুলসি পাতা নন সেটা মানুষ অভিযোগ করতেই স্পষ্ট হয়ে যায়। পুলিশের গুন্ডা দমন শাখার অফিসাররা পুরী থেকে সুশান্ত ঘোষকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, কাটমানি, দুর্নীতি- সহ হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। সুশান্ত ঘোষকে নিয়ে কলকাতা পুরসভার ১০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হয়েছেন। সুশান্ত ঘোষকে ধরতে সংখ্যা দাঁড়ায় ১১।
অন্যদিকে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। অনেকদিন ধরেই পুলিশ তাঁকে খুঁজছিল। ওড়িশার রাস্তায় গাড়ি ফেলে দিয়ে পালিয়েছিলেন সুশান্ত ঘোষ। ফলে তাঁর চালক সুজিত চৌধুরী ধরা পড়েছিলেন। আর গা-ঢাকা দিয়েছিলেন ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তাঁর খোঁজে জোরদার তল্লাশি চলছিল। অবশেষে ধরা পড়ে গেলেন সুশান্ত। হকারদের কাছ থেকে তিন কোটি টাকা তোলাবাজির অভিযোগে আনন্দপুর থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন হকার্স কমিটির কয়েকজন। সেই অভিযোগ জমা পড়তেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন সুশান্ত।
তাছাড়া পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন বাজারের হকার্স কমিটির অন্তত ১৩০ জন সদস্য। তাঁদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ এবং তাঁর সাতজন সহযোগী মিলে প্রায় তিন কোটি টাকা আদায় করেছিলেন। বাজারে দোকান বরাদ্দ এবং নির্মাণের কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নেওয়া হয়েছিল। ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাজারে নতুন করে টিন ও শাটার লাগানো বেশ কিছু দোকান তৈরি করা হয়েছিল। বেনামেও বহু সম্পত্তি রয়েছে সুশান্তের বলে অভিযোগ।