• এবার পালটা মার! ভাঙনের আশঙ্কা বিজেপিতে? বিধায়কদের হোটেলবন্দি করছে গেরুয়া শিবির
    প্রতিদিন | ১৮ জুন ২০২৬
  • জাতীয় রাজনীতিতে এই মুহূর্তে বিরোধী ভাঙানোর খেলা চলছে। তৃণমূল ভেঙেছে। শিব সেনার উদ্ধব শিবির ভাঙছে। এমনকী অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টিতে ভাঙন নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কি পালটা মারের প্রস্তুতি ইন্ডিয়া জোটের? ঝাড়খণ্ডে রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে নাকি বিজেপির বিধায়করা যোগাযোগ করছেন শাসক জোটের সঙ্গে। তাই তড়িঘড়ি বিজেপি নিজেদের শিবিরের বিধায়কদের হোটেলবন্দি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    রাজ্যসভার নির্বাচন ১৮ জুন। মঙ্গলবার থেকেই রাঁচির এক বিলাসবহুল হোটেলে রাখা হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে এনডিএ শিবিরের ২৪ বিধায়ককে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই এনডিএর একের পর এক বিধায়ক রাঁচির ওই হোটেলে আসা শুরু করেন। বিজেপির দাবি, ২৪ জন বিধায়কই ওই হোটেলে পৌঁছে গিয়েছেন। ১৮ জুন পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন তারা। সবরকম ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ১৮ তারিখ সোজা গিয়ে ভোট দেবেন ওই বিধায়করা।

    কিন্তু কেন এই সাবধানতা? কংগ্রেস এবং জেএমএম শিবিরের দাবি, শাসক দলের বেশ কয়েকজন বিধায়ক রাজ্যসভার ভোটের আগে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিধায়কদের তাই বন্দি করে রাখছে বিজেপি। যদিও গেরুয়া শিবির তা মানতে নারাজ। বিজেপির দাবি, বিধায়কদের ভাঙানোর চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, তাই সতর্কতা। তবে রাজ্যসভা নির্বাচনে জয় নিয়ে কোনও সংশয় নেই এনডিএ’র।

    ঝাড়খণ্ডের রাজ্যসভা ভোটের অঙ্ক এই মুহূর্তে শাসক জোটের পক্ষে। ঝাড়খণ্ডে ৩ আসনে ভোট হবে। ৮১ আসন বিশিষ্ট বিধানসভায় প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে ২৮ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। কংগ্রেস জেএমএম জোটের হাতে রয়েছে ৫৬ জন বিধায়কের সমর্থন। টাইগার মাহাতোও শাসক শিবিরের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। শাসক শিবির থেকে জেএমএম একজনকে প্রার্থী করেছে। আরেকজনকে প্রার্থী করেছেন কংগ্রেস। জেএমএমের নিজেদের হাতে ৩৪ বিধায়ক রয়েছে। ফলে তাঁদের প্রার্থীর জয় নিয়ে সংশয় নেই। চিন্তা কংগ্রেসকে নিয়ে। কংগ্রেসের হাতে বিধায়ক সংখ্যা ১৬। তবে জেএমএম, সিপিআইএমএল এবং আরজেডির সমর্থন পেলে সংখ্যাটা ২৮ পেরোতে পারে। অন্যদিকে এনডিএর হাতে ২৪ বিধায়ক। ইন্ডিয়া জোট ভাঙাতে না পারলে তাদের প্রার্থীর জেতা কঠিন। যদিও আপাতত গেরুয়া শিবিরকে ঘর সামলাতে হচ্ছে। বিধায়কদলে ভাঙন রুখতে হচ্ছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)