ঋতব্রত না শোভনদেব! বাজেট অধিবেশনের দিনই বিরোধী দলনেতা ঘোষণা? নজর হাই কোর্টে
প্রতিদিন | ১৮ জুন ২০২৬
বঙ্গ বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে। স্পিকারের এহেন সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। শুনানি শেষে সেই মামলার রায়দান স্থগিত রাখলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তবে বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করতে পারেন বিচারপতি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে আগামিকাল থেকেই বিধানসভায় শুরু হচ্ছে বাজেট অধিবেশন। রাজ্যপালের ভাষণের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে নতুন সরকারের অধিবেশন। তার আগে আদালতের নির্দেশ কোন দিকে যায়? সেদিকে নজর সবার।
গত কয়েকদিন ধরে এই মামলার শুনানি চলে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে। সেই মামলার শুনানিতে আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে স্পিকারকে। এমনকী ১৯ মে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করার প্রস্তাব পাওয়ার পরেও কেন স্পিকার অপেক্ষা করেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে কলকাতা হাই কোর্ট। যদিও এই বিষয়ে বিধানসভার স্পিকারের তরফে বেশ কিছু জটিলতার কথা তুলে ধরা হয়। আদালতে স্পিকার জানান, ১৯ মে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করার যে চিঠি এসেছিল তাতে বিজয়ী বিধায়কদের কবে বৈঠক হয়েছিল এবং মিটিং রেজল্যুশন হয়েছিল কিনা তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। আর সেই কারণেই তিনি অপেক্ষা করেছিলেন। ৩ জুন বিধানসভার বিরোধী রাজনৈতিক দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে থেকে ৫৬ জন সশরীরে হাজির হয়ে প্রস্তাব দেন বিরোধী দলনেতা ও চিফ হুইপ নিযুক্ত করার বিষয়ে। সেই জন্য ৩ জুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
যদিও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সওয়ালে তিনি জানান, “ঋতব্রত এবং অন্যান্যরা কে? তাঁরা কি পার্টির প্রেসিডেন্ট নাকি সেক্রেটারি? বিরোধী দলনেতা কে ঠিক করবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করবেন নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নেবেন?” দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এই বিষয়ে চূড়ান্ত রায়দান স্থগিত রেখেছেন। তবে বৃহস্পতিবার রায় আদালত কি দেয়, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে সবপক্ষ।