পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আগামী দিনের কাজকর্ম কীভাবে চলবে, বাংলা বিনোদন জগত তথা ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রি কীভাবে চলবে, গিল্ড ও ফেডারেশন এর কী হবে? কে কোন দায়িত্বে থাকবেন তা জানিয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র শিল্পের নানা বিষয় নিয়ে নিয়ে বিধায়কদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ যেখানে ফেডারেশন এবং গিল্ডগুলোর কার্যপরিচালনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, একটি আইনত বাধ্যতামূলক কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের আগে, ফেডারেশন যদি পেশাদার এবং স্বচ্ছ উপায়ে পরিচালিত না হয়, তবে বিনোদন জগত বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে যা এই বাংলা বিনোদন জগতের কর্মসংস্থানে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন কমিটি ও সংস্থা এবং পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়:
★ তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধীনে প্রায় ৪০টি সংস্থা/কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে কিছু একই ধরনের কাজ করছে বলে মনে করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, চলচ্চিত্র/সংস্কৃতি ক্ষেত্রের উপস্থিত সদস্যরা এই সংস্থা ও কমিটিগুলির কাজের ধরন পর্যালোচনা করবেন এবং কোন সংস্থাগুলি চালু রাখা হবে তা সুপারিশ করবেন। যদি কোনও কমিটি একত্রিত করার প্রয়োজন হয়, তবে সেই বিষয়ে সদস্যরা ১৫ দিনের মধ্যে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রধান সচিবকে জানাবেন।
★ সদস্যরা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বিবেচনার জন্য বিভিন্ন সংস্থা/কমিটির প্রধান পদাধিকারীদের (যেমন— সভাপতি, সহ-সভাপতি, চেয়ারম্যান, সচিব ইত্যাদি) জন্য ২-৩টি নাম প্রস্তাব করতে পারবেন।
★ দফতরের অডিটোরিয়াম/হল বিভিন্ন আবেদনকারীর মধ্যে বরাদ্দ করার বর্তমান পদ্ধতিও সদস্যরা পর্যালোচনা করবেন।
বলা হয়েছে, ফেডারেশন এবং গিল্ডগুলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ট্রেড ইউনিয়ন এর অধীনে 'ট্রেড ইউনিয়ন আইন, ১৯২৬' অনুযায়ী নথিভুক্ত করা হবে৷
★ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত ফেডারেশন এবং গিল্ডগুলোর বর্তমান কাঠামো বজায় থাকবে৷
★ ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা এখনও বাকি, তাই চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সরকার একটি পরামর্শদাতা কমিটি (Advisory Committee) গঠন করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
★ এই কমিটির সদস্যরা হলেন রূপা গাঙ্গুলী, পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়, শ্রী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শ্রী দীপক অধিকারী, যিশু সেনগুপ্ত, মহেন্দ্র সোনি, সানি ঘোষ রায়।