• ঋতব্রত নাকি শোভনদেব; বিরোধী দলনেতা কে ? বিধানসভার অধিবেশন শুরুর দিনই ফয়সালা আদালতের
    eTV Bharat | ১৭ জুন ২০২৬
  • কলকাতা, 17 জুন: রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের আমলে বিধানসভার অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামিকাল, বৃহস্পতিবার ৷ আর এদিনই তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করা সংক্রান্ত মামলায় রায় ঘোষণা করবে কলকাতা হাইকোর্ট ৷

    গত 13 মে তৃণমূলের তরফে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, দলের 80 জন বিধায়কের সমর্থন-সহ দলের পরিষদীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তা সত্ত্বেও তাঁকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেয়নি বিধানসভার সচিবালয় । অষ্টাদশ বিধানসভা গঠন এবং প্রথম অধিবেশন সম্পন্ন হওয়ার পরও কেন তাঁকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হল না, তা জানতে তথ্য জানার অধিকার আইন বা আরটিআই করেন বালিগঞ্জ বিধানসভার প্রবীণ বিধায়ক ৷

    পাশাপাশি ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়ার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও দায়ের করেছিলেন শোভনদেব ৷ গত কয়েকদিন ধরে চলা এই মামলার শুনানি শেষ হল বুধবার ৷ এদিন রায়দান স্থগিত রাখলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও ৷ বৃহস্পতিবার সকালে রায় ঘোষণা করবেন তিনি ৷

    অধ্যক্ষের ভূমিকায় বিচারপতির প্রশ্ন

    মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে একাধিক বার প্রশ্ন করেছেন, কেন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করার প্রস্তাব পাওয়ার পরেও অপেক্ষা করলেন ? এবং শেষমেশ 3 জুন কেন বিরোধী দলনেতা ও চিফ হুইপ নিযুক্ত করলেন ?

    জবাবে বিধানসভার অধ্যক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর কাছে 13 মে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করার যে চিঠি এসেছিল, তাতে বিজয়ী বিধায়কদের কবে বৈঠক হয়েছিল এবং মিটিং রেজলিউশন হয়েছিল কি না, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তিনি অপেক্ষা করেছিলেন ৷ পাশাপাশি দুজন বিধায়ক অভিযোগ করেন তাঁদের সই জাল করা হয়েছে ৷

    কিন্তু 3 জুন বিধানসভার বিরোধী রাজনৈতিক দলের 80 জন বিধায়কের মধ্যে থেকে 56 জন সশরীরে হাজির হয়ে বিরোধী দলনেতা ও চিফ হুইপ নিযুক্ত করার বিষয়ে প্রস্তাব দেন ৷ তাই ওই দিন অধ্যক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন ৷

    বিধানসভার অধ্যক্ষের তরফে আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, "9 মে যে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যে রিকোয়েস্ট করা হয়েছিল, সেখানে বিরোধী দলনেতা নিয়োগের বিষয়ে রেজলিউশন হয়েছিল কি না, তা জানানো হয়নি ৷ পরে 19 মে ফের চিঠি দিয়ে জানানো হয় যে 6 মে বৈঠক হয়েছিল ৷ অন্যদিকে দুই বিধায়ক অভিযোগ করেন 6 মে মিটিংয়ের কোনও রেজলিউশন হয়নি ৷ পরে 58 জন বিধায়কের সই করা নিয়ে চিঠি দেওয়া হয় স্পিকারকে, যার মধ্যে 56 জন বিধায়ক সশরীরে হাজির ছিলেন ৷"

    শুনানি পর্ব

    মামলার শুনানি একটি অংশে বিচারপতি জানতে চান, 13 মে একটি চিঠি পাওয়ার পরও স্পিকার কেন 3 জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করে বিরোধী দলনেতার নাম ঘোষণা করলেন ? প্রথম যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটা সম্পূর্ণ উপেক্ষাই বা কেন করলেন স্পিকার ?

    তাঁর তরফে আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য জবাবে বলেন, স্পিকারের কাছে যেভাবে অভিযোগ এসেছে সেভাবেই তিনি পদক্ষেপ করেছেন ৷ 80 জন বিধায়কের মধ্যে 56 জন সশরীরে স্পিকারের কাছে এসে জানাচ্ছেন তাঁদের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে ৷ সেটাকে তিনি উপেক্ষা করবেন কীভাবে ? 3 জুন স্পিকারের কাছে 80 জনের মধ্যে 56 জন বিধায়ক হাজির হয়ে জানান তাঁদের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে ৷

    মহারাষ্ট্র শিবসেনায় ভাঙন সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট অধ্যক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল, স্পিকারের অনুসন্ধান করার ক্ষমতা রয়েছে ৷ সেই নির্দেশে আরও বলা হয়েছিল স্পিকার কোনও রবার স্ট্যাম্প নন ৷ এই ক্ষেত্রে বিধানসভার স্পিকার অনুসন্ধান করে দেখেন 6 মে সর্বসন্মতি ক্রমে কোনও মিটিং রেজল্যুশন হয়েছিল কি না ৷

    ঋতব্রত-সন্দীপনের সওয়াল

    দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার তরফে এদিন আইনজীবী জয়দীপ কর হাজির ছিলেন ৷ তিনি প্রশ্ন করেন, "রিট পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে বিধায়কদের মিটিং হয়েছে 19 মে ৷ মামলায় স্পিকারের সিদ্ধান্তকে বাতিল করার আর্জি জানানো হয়েছে । আমাদের বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কি আদৌ বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করার আবেদন করা হয়েছিল ? আমরা এই বিষয়ে হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে চাই ৷ স্পিকারের হাতে বিরোধী দলনেতা পরিবর্তন করার ক্ষমতা আছে ৷ এক্ষেত্রে সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ৷ পাল্টা বিচারপতি বলেন, ধরা যাক, 10 জুন অধ্যক্ষ একটা চিঠি পেলেন ৷ পরে 15 জুন আরেকটি চিঠি দিয়ে বলা হল, সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে ৷ তাহলে কি স্পিকার সেটাই গ্রহণ করবেন ?

    এই পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী জয়দীপ কর বলেন, অধ্যক্ষ কিছু ভুল করেন নি ৷ তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেখানে ছিল, তাঁদেরই নিযুক্ত করেছেন ৷ 3 জুন স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হয় ৷ সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য উপস্থিত ছিলেন ৷ তাতে বিচারপতি জানতে চান, প্রথম যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটাকে তিনি গ্রহণ করেননি কেন ? জয়দীপ জানান, 58 জন বিধায়ক বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করায় সম্মতি দিয়েছে ৷ তাঁদের প্রত্যেকের বক্তব্য আদালতের শোনা উচিত ৷ তাদের এই মামলায় যুক্ত করা হোক ৷

    তৃণমূলের পাল্টা সওয়াল

    আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালকে বলেন, বিরোধী দলনেতা কে হবেন তাতে পার্টির অবস্থান কী, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ ৷ বিধানসভায় কোন গ্রুপ কী দাবি করল, সেটা বড় কথা নয় ৷ সংখ্যাগরিষ্ঠ এদিকে আছে না ওদিকে- অধ্যক্ষের এটা দেখার কোনও সুযোগ নেই ৷ পার্টি কী বলছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ ৷ রাজনৈতিক দলকেই গুরুত্ব দিতে হয় ৷ ঋতব্রত এবং অন্যান্যরা কে ? তাঁরা কি পার্টির সভাপতি নাকি সম্পাদক ? বিরোধী দলনেতা কে হবেন সেটা ঠিক করার ভার কার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ? স্পিকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটাকে যদি গ্রহণ করতে হয়, তাহলে কোনও ব্যাপারে রাজনৈতিক দল সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না ৷
  • Link to this news (eTV Bharat)