• মমতার 20 বছরের নিরাপত্তারক্ষীদের সরাল প্রশাসন ! রাতের ভিডিও প্রকাশ ডেরেকের
    eTV Bharat | ১৭ জুন ২০২৬
  • কলকাতা, 18 জুন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি থেকে তাঁর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তারক্ষীদের প্রত্যাহার করে করে নেওয়া হয়েছে। ভিডিয়ো পোস্ট এমনই দাবি করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক'ও ব্রায়েন। নতুন নিরাপত্তা রক্ষীদের ফিরিয়ে দিয়েছেন মমতা। তাঁর বাড়ি এখন কার্যত অরক্ষিত বলে দাবি তৃণমূলের । যদিও প্রশাসনের দাবি, মমতা নিরাপত্তায় কোনও পরিবর্তন হয়নি । শুধু আধিকারিকদের বদল করা হয়েছে ।

    রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। তৃণমূলের ভরাডুবির পর পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতা এখন আর রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান নন। ক্ষমতার এই হাতবদলের পর থেকেই রাজনৈতিক টানাপোড়েন সমানে চলছে । তৃণমূলের অন্দরে একের পর এক বিধায়কদের বিদ্রোহের আঁচ দেখা গিয়েছে । সংসদীয় রাজনীতিতেও প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছে মমতার দল। তবে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তিনি কোনও খামতি বা ফাঁকফোকর রাখতে চান না। সেইমতো এতদিন মমতার নিরাপত্তায় তাঁর পুরনো ও বিশ্বস্ত নিরাপত্তারক্ষীরাই বহাল ছিলেন। কিন্তু বুধবার আচমকাই সেই চিত্রে এল বড়সড় বদল।

    প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার রাতেই একটি চার মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করেছেন ডেরেক। সেই ভিডিওতে তিনি তুলে ধরেছেন কালীঘাটের বাড়ির বর্তমান অবস্থার ছবি। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, যে বাড়িটিতে একসময় কড়া পুলিশি প্রহরা থাকত, আজ তা কার্যত জনশূন্য। ডেরেক তাঁর ভিডিও বার্তায় গোটা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বর্তমান সরকারের পদক্ষেপকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যাও দিয়েছেন।

    সাংসদকে বলতে শোনা যায়, "প্রায় 20 বছর ধরে যে নিরাপত্তারক্ষীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন, আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ আচমকা তাঁদের তুলে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাচক্রে এখানে গাড়ি নিতে এসেছিলাম, তাই নিজের চোখে পুরোটা দেখতে পেলাম। আমি সাধারণত রাত নটার সময় এখানে থাকি না, কিন্তু গাড়ি নিতে আসায় এই দৃশ্য দেখলাম। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে ফোন করে প্রথম জানান যে পিএসও-দের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।"

    ডেরেক এরপর মোবাইল ক্যামেরা ঘুরিয়ে কালীঘাটের বাড়ির চারপাশ দেখিয়ে বলেন, "মমতাদি এখন ভিতরে রয়েছেন। আর এই দেখুন, বাড়ির গেটের সামনে বা পেছনে কোনও পুলিশ নেই । জায়গাটা পুরোপুরি ফাঁকা। এটা কী ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা ? তাঁর অভিযোগ, পুরনো নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে প্রশাসনের তরফ থেকে তিন-চারজন এমন নতুন রক্ষীকে পাঠানো হয়েছিল, যাঁদের সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একেবারেই পরিচিত নন।

    এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করে ডেরেক বলেন, "দীর্ঘ 20-25 বছর পর আপনি কারও নিরাপত্তারক্ষী বদল করতে চাইছেন । আর সেখানে এমন তিন-চার জনকে পাঠাচ্ছেন যাঁদের তিনি একেবারেই চেনেন না ! এটা নজিরবিহীন এবং চরম ঝুঁকিপূর্ণ একটি ঘটনা। তিনি এই অচেনা লোকগুলোর ঘেরাটোপে থাকতে চাননি বলেই তাঁদের ফিরে যেতে বলা হয়েছে। এখন পুরো বাড়িটাই অরক্ষিত।"

    কিন্তু হঠাৎ কেন এমন পদক্ষেপ করল নতুন সরকার ? এর পেছনে রাজনৈতিক আক্রোশ দেখছেন তৃণমূল। ক্ষোভ উগরে দিয়ে ডেরেক তাঁর ভিডিওতে প্রশ্ন তোলেন, "কেন এই আক্রোশ ? কী এমন ঘটল যে রাতারাতি নিরাপত্তা তুলে নিতে হল ? এর কারণ কি এই যে, তিনি (মমতা) আজ সন্ধ্যায় হকারদের অধিকারের দাবিতে তাঁদের সঙ্গে পথে হেঁটেছিলেন ? নাকি ভবানীপুরের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে তিনি যে মামলা দায়ের করেছেন, প্রশাসন তারই প্রতিশোধ নিচ্ছে ?"
  • Link to this news (eTV Bharat)