• ডুয়ার্সে লাইনের উপর আচমকা চলে এল হাতি, প্রাণ বাঁচাতে ব্রেক কষলেন চালক
    News18 বাংলা | ১৮ জুন ২০২৬
  • রাতের অন্ধকারে আবারও বাঁচল একাধিক প্রাণ! প্রায়দিনই রাতের অন্ধকারে চালকের তৎপরতায় এভাবে রুখে যাচ্ছে প্রাণহানির ঘটনা! জঙ্গল পথ পেরোতে গেলেই হামেশাই রাতের অন্ধকারে লাইনের মাঝে চলে আসে গজল আজ। গতকালের পর আজ আবারও রেল চালকের তৎপরতায় রক্ষা পেল হাতির প্রাণ, বড় দুর্ঘটনা এড়াল কামাখ্যা-রাঁচি এক্সপ্রেস।

    উত্তরবঙ্গের শেবক-গুলমা রেল সেকশনে ধরা পড়ল মানবিকতার নজির। গতকাল গভীর রাতের পর আজও একই লাইনে হাতির আগমনে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। তবে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও তৎপরতায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ালেন রেলের চালকরা। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫৬৬২ ডাউন কামাখ্যা-রাঁচি এক্সপ্রেস নিয়ে কর্তব্যরত অবস্থায় লোকো পাইলট এস. কে. মালাকার এবং সহকারী লোকো পাইলট আর. কুমার সেবক-গুলমা সেকশনের ২০/১৪ কিলোমিটার পয়েন্টে হঠাৎই রেললাইনের উপর একটি হাতিকে দেখতে পান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন তাঁরা।

    ধীরে ধীরে ট্রেন থামিয়ে হাতিটিকে নিরাপদে লাইন পার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। পরে হাতিটি লাইন ছেড়ে জঙ্গলের দিকে চলে গেলে তবেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয় ট্রেন। উল্লেখ্য, এর আগেও একই সেকশনে অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে চালকের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচেছিল একটি হাতি। ফলে বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে প্রশ্ন উঠছে এই রুটে বন্যপ্রাণের নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত?

    পরিবেশকর্মী অনির্বাণ মজুমদার জানিয়েছেন, বর্ষাকালে রাতে প্রায়ই খাদ্যের সন্ধানে হাতির দল এই এলাকায় চলে আসে। সেই কারণে এই সময় ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জরুরি। তাঁর কথায়, “চালকদের এই সচেতনতা সত্যিই প্রশংসনীয়। নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যদি ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তা হলে হাতির মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।” বারবার চালকদের তৎপরতায় রক্ষা পাচ্ছে ‘গজরাজের’ প্রাণ তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি তুলছেন পরিবেশপ্রেমীদের একাংশ। রেল ও বন দফতরের সমন্বয়ে স্থায়ী পদক্ষেপই এখন একমাত্র ভরসা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)