এই সময়, ইসলামপুর: প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ গ্রেপ্তার হতেই মুখ সময় খুলতে শুরু করলেন ইসলামপুরের ঠিকাদাররা। তাঁর মন্ত্রিত্বকালে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে ফেলো কড়ি মাখো তেল' সংস্কৃতি পুরোমাত্রায় চালু ছিল বলে অভিযোগ। দপ্তরের টেন্ডার পেতে হলে প্রায় ২০ শতাংশ অর্থ কাটমানি হিসেবে দিতে হতো বলে অভিযোগ। মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ কিছু ঠিকাদারই সেই সময়ে কাজ পেতেন।
ভোটের ফল প্রকাশের পর দিনহাটা থেকে পরিবার-সহ বেপাত্তা হয়ে যান উদয়ন। বুধবার কলকাতার ফুলবাগান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাক্তন মন্ত্রীর গ্রেপ্তারির পরই 'প্যান্ডোরার বাক্স' খুলে গিয়েছে। উদয়ন জমানার কাজের ব্যাপারে একাধিক ঠিকাদার নিরব হয়েছেন। অনিরুদ্ধ বিশ্বাস নামে এক ঠিকাদার বলেন, 'প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেবের আমলে আমি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে একাধিক কাজ করলেও উদয়ন গুহ মন্ত্রী হওয়ার পর আর কোনও কাজ পাইনি।
ইসলামপুরের নেতাজি সুভাষ মঞ্চ নির্মাণের টেন্ডারে আমি অংশ নিতে পারিনি। আমাকে জানানো হয়েছিল আমার নথিপত্র নাকি অনুমোদন পাবে না। অথচ, অনেক বড় বড় সরকারি প্রকল্পের কাজ আমি সফল ভাবে সম্পন্ন করেছি।' নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদারের কথায়, 'আমরা বহু বছর ধরে সরকারি কাজ করেছি। কিন্তু উদয়ন গুহ মন্ত্রী হওয়ার পরে আর কোনও টেন্ডার পাইনি। নানা কৌশলে আমাদের টেন্ডার বাতিল করে দেওয়া হতো। প্রতিবাদ করার সাহস ছিল না।'
গত বছর ইসলামপুরে নেতাজি সুভাষ মঞ্চের শিলান্যাস অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে উপস্থিত এক ঠিকাদারকে দেখিয়ে উদয়ন বলেছিলেন, 'ওকে কেউ বিরক্ত করবেন না। ও আমার লোক।' মন্ত্রীর এমন মন্তব্যে তখন নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। ইসলামপুর নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক হিমাংশু সরকার বলেন, 'আমরা নেতাজি সুভাষ মঞ্চের জন্য আন্দোলন করেছি। কিন্তু কাজ শুরুর পর কী ভাবে কাজ হচ্ছে, কত টাকার কাজ হচ্ছে সেই তথ্য থেকে আমাদের আড়াল করা হতো। গোড়ায় গলদ আছে তখনই আন্দাজ করেছিলাম।' প্রাক্তন মন্ত্রীর গ্রেপ্তারিতে 'যেমন কর্ম তেমন ফলই দেখছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।