এই সময়, আলিপুরদুয়ার: হাতির আক্রমণে চা–শ্রমিকদের ঘর ভাঙলে তাঁরা কোনওরকম সরকারি সহায়তা কিংবা ক্ষতিপূরণ পান না। অথচ ডুয়ার্সের বিভিন্ন চা–বাগান এলাকায় হাতির হানা এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দিনের পর দিন বঞ্চনার কারণে চা–শ্রমিকদের সঙ্গে গজরাজের একটা বৈরিতার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এতে হাতি–মানুষ সংঘাত মেটার বদলে উল্টে বেড়েই চলেছে।
শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ না–পাওয়ার মূল কারণ ১৯৫১–র প্ল্যান্টেশন লেবার অ্যাক্ট। এ বার সেই আইনে পরিমার্জন করে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা যায় কি না, তা নিয়ে বিবেচনার আশ্বাস দিলেন রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ।
বনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে বুধবার প্রথম আলিপুরদুয়ারের জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করেন মনোজ। সেখানেই বন সংলগ্ন চা–বাগানগুলিতে হাতির আক্রমণে শ্রমিকদের ঘর ভেঙে যাওয়া এবং ক্ষতিপূরণ না–পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ‘স্পোর’–এর মুখপাত্র শ্যামাপ্রসাদ পান্ডে।
বনমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হাতির আক্রমণ এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে, শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। আইনি জটিলতার কারণে বন দপ্তর চা–শ্রমিকদের সহায়তা করতে পারে না।’ তিনি ওই আইনের সংশোধন ও পরিমার্জনের দাবি জানান। বনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনি জটিলতা কী ভাবে কাটানো যাবে এবং রাজ্য সরকার কী ভাবে চা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে পারবে, পুরো বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।’
এ দিন মনোজের সঙ্গে ছিলেন জেলার আরও দুই মন্ত্রী দীপক বর্মন ও বিশাল লামা। ছিলেন উত্তরবঙ্গের বনকর্তা, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, জিপসি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এবং গাইডরাও। সবাইকে নিয়ে এ দিন মাদারিহাট প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্রে একটি সমন্বয় বৈঠক করেন বনমন্ত্রী। বৈঠকে উত্তরের জঙ্গল সংলগ্ন লোকালয়ে হাতি এবং মানুষের সংঘাত কী ভাবে এড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপকের কাছে প্রতিটি সরকারি স্কুলে বন্যপ্রাণ সম্পর্কিত পাঠ্যসূচি আবশ্যিক করার আবেদন জানান ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহা। তিনি বলেন, ‘সরকারি স্কুলগুলিতে যদি বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের পাঠ দেওয়া যায়, তা হলে পড়ুয়ারা ছোট থেকেই সচেতন হতে পারবে। এটা সুস্থ সমাজ গড়ার ক্ষেত্রেও কাজে দেবে।’ এ নিয়ে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের চিন্তাভাবনার স্তরে রয়েছে।’