• মোদীর সভা ঘিরে প্রত্যাশা চরমে, তৎপর প্রশাসনও
    এই সময় | ১৮ জুন ২০২৬
  • দিব্যেন্দু সরকার, আরামবাগ

    শৈবতীর্থ তারকেশ্বরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ২০ জুন, শনিবার তারকেশ্বরে তিনি প্রশাসনিক বৈঠক করবেন ও একটি সভাও করবেন। জনগণের প্রত্যাশা, এ দিন প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু নতুন প্রকল্প ঘোষণা করবেন। আবার তারকেশ্বরকে কাশী বিশ্বনাথ ধামের আদলে তৈরি করার কথাও ঘোষণা করতে পারেন তিনি, এই সম্ভাবনা ঘিরেও জনমানসে কৌতূহল ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

    মোদীর সভা ঘিরেও ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দিনরাত প্রশাসনের সর্বময় কর্তাব্যক্তিরা তাঁর সভাস্থলে আছেন। অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে ঘিরে ফেলা হবে গোটা এলাকা। মাঝে মাত্র একটা দিন। তাই প্রস্তুতির একেবারে চূড়ান্ত পর্বের কাজ চলছে। জানা গিয়েছে, লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে এ দিন।

    প্রধানমন্ত্রীর এই সভা ঘিরে আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার অর্থাৎ ১৯ ও ২০ জুন গোটা জেলাজুড়ে পরিবহণ ব্যবস্থা একেবারেই স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই দিনের জন্য শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন রুটের সমস্ত বাসই তুলে নেওয়া হবে। যার ফলে হাজার হাজার নিত্যযাত্রী ভোগান্তির শিকার হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রায় কোনও বাসই থাকবে না এই দু'দিন। এর মধ্যে ২০ জুন আবার জামাই ষষ্ঠী। বাঙালির অন্যতম প্রধান পারিবারিক উৎসব।

    পরিবহণ দপ্তর ও বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরামবাগ মহকুমার উপর দিয়ে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত জেলার যে সব বাস চলে, তার সিংহভাগই তুলে নেওয়া হবে। জানা গিয়েছে, আরামবাগ মহকুমার উপর দিয়ে যাতায়াতকারী প্রায় ৫৮৬টি বাস তুলে নেওয়া হচ্ছে। আবার, গোটা জেলার মধ্যে ১৯৯০টি বাস তুলে নেওয়া হচ্ছে।

    পাশাপাশি, ৪৯টি ট্রেকার তুলে নেওয়া হচ্ছে। গোটা জেলা থেকে লক্ষাধিক কর্মী আসবেন সভাস্থলে। এখনও পর্যন্ত এক হিসেবে দেখা গিয়েছে, ১৯৯০টি বাসে প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার কর্মী আসবেন। পাশাপাশি, ৪৯টি ট্রেকারে আসবেন বেশ কয়েক হাজার মানুষ। এই ভাবেই পুরশুড়া থেকে ২০ হাজার, আরামবাগ থেকে ৬০০০, আরামবাগ পুরসভা এলাকা থেকে ২০০০, খানাকুল ১ নম্বর ব্লক এলাকা থেকে ৪০০০, খানাকুল ২ থেকে ৩০০০, গোঘাট ১ ও ২ থেকে মোট ৮০০০ কর্মী, তারকেশ্বর থেকে ১৫ হাজার, শ্রীরামপুর থেকে ৬৫০০, উত্তরপাড়া থেকে ১০০০, চুঁচুড়া মহকুমা থেকে মোট ৩০ হাজার কর্মী আসবেন। পাশাপাশি, চন্দননগর মহকুমা থেকে ৪৩ হাজার কর্মী আসবেন। একই ভাবে শ্রীরামপুর মহকুমা থেকে প্রায় ১৯ হাজার কর্মী তারকেশ্বরে আসছেন এ দিন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়াচ্ছে, কাল, শুক্রবার থেকেই গোটা জেলায় অলিখিত বন্ধ দেখতে চলেছেন মানুষ। প্রশ্ন উঠেছে, জেলার প্রায় সমস্ত রুটেরই বাস তুলে নেওয়া হলে, নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা-সহ অন্য পেশার মানুষজন গন্তব্যে পৌঁছবেন কী ভাবে।

    আরামবাগ মহকুমা বাস অপারেটর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদিকা মধুমিতা ভট্টাচার্য বলেন, 'আমাদের ওঁরা ওঁদের প্রয়োজন জানিয়েছিলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আসছেন। খুবই গর্বের বিষয়। ওঁরা যেমন রিকোয়ারমেন্ট দিয়েছিলেন, আমরা তা পূরণ করে দিয়েছি। তবে আমরা চেয়েছিলাম, শুক্রবার রাতের দিকে বাসগুলিকে রিপোর্টিং করাতে। কিন্তু ওঁরা শুক্রবার সকালেই চেয়েছেন। আমরা দিয়েছি। এর পাশাপাশি, যে সব ট্যুরিস্ট বাস নেওয়া হয়েছে, সেগুলি যাতে রামকৃষ্ণ সেতু দিয়ে যেতে-আসতে পারে, সে জন্য হাইটবারগুলি দু'দিনের জন্য খুলে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে।'

    এই নিয়ে আরামবাগ বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, 'এই দিনটা পশ্চিমবঙ্গ দিবস। আমাদের গর্ব হচ্ছে, এই দিনেই প্রধানমন্ত্রী তারকেশ্বরে আসছেন। ওই দিন বাঁধভাঙা মানুষজন সভাস্থলে হাজির হবেন। আনন্দে আত্মহারা তাঁরা। তারকেশ্বর নিয়ে নতুন কিছু ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। এটাই তো পরম পাওনা। একটা দিন সবাইকে মানিয়ে নিতেই হবে। আমরা আপামর জনসাধারণকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।'

  • Link to this news (এই সময়)