• নিয়মের গেরো, শিবিরে পিএম কিষানে আবেদন করতে না পেরে হতাশ কৃষকরা  ফোন ধরলেন না কৃষিমন্ত্রী
    বর্তমান | ১৮ জুন ২০২৬
  • সুমন তেওয়ারি, আসানসোল:  বার্নপুর ত্রিবেণী মোড়ে জনকল্যাণ শিবিরে হাজির হয়েছিলেন কৃষক বমমালী পাল। গিয়েছিলেন কৃষিদপ্তরের স্টলে। পিএম কিষানে আবেদন করতে ফরম চাইলেন। স্বেচ্ছাসেবক জানালেন, ওই ফরম এখন দেওয়া হচ্ছে না। অনলাইনে আবেদন করতে হবে। দীর্ঘপথ  সাইকেল চালিয়েই এসেছিলেন বনমালীবাবু। শিবিরেই বসে পড়লেন মাথায় হাত দিয়ে। তিনি বললেন, ‘অনলাইনে আবেদন করতে বহু বছর চেষ্টা করছি। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালের আগে নিজের নামে জমির পরচা চা‌‌ই। বাবা আমাদের ২০২০ সালে জমি দানপত্র করেছে। তা হলে কী করে ওই শর্ত পূরণ করব?’ প্রশ্ন তুলেই তাঁর সংযোজন, ‘কৃষক বন্ধুই ভালো ছিল। এত জটিলতা ছিল না।’  

    আসানসোলের বিএনআর মোড়ের শিবিরে এসেছিলেন ধীরেন মাজি। তিনি বলেন, ‘পিএম কিষান সবার জন্য নয়। বিজেপি সরকার বলছে, কৃষক বন্ধু বন্ধ করে দেবে। তার আগে পিএম কিষানের নিয়মের সরলীকরণ প্রয়োজন। সেটা না করলে আমার মনে হয় কোনো কৃষকই কেন্দ্রের এই সরকারি সুবিধা পাবেন না।’ 

    বনমালীবাবু কিংবা ধীরেনবাবু উদাহরণমাত্র। কাঁকসা থেকে দুর্গাপুর, ফরিদপুর সহ কৃষি অধ্যুষিত ব্লকগুলিতে এনিয়ে আতঙ্ক দানা বেঁধেছে। প্রথমত কোনো জনকল্যাণ শিবিরেই পিএম কিষানের ফরম মিলছে না। অনলাইনে আবেদন করতে গেলে একাধিক শর্ত।  কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ২০১৯ সালের পরে কারও বাবা মারা গেলে সেক্ষেত্রে তাঁর ছেলে পারিবারিক সূত্রে সেই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তাতেও বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। তাঁর বাবার নামে থাকা জমির রেকর্ড, বর্তমানে তাঁর নামে থাকা জমির রেকর্ড ও বাবার ডেথ সার্টিফিকেট জমা করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে গরিব চাষি পরিবারগুলি এত নথি গুছিয়ে রাখেন না। তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। 

    কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই পিএম কিষান নিয়ে চাষিদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছিল। ব্লকের কৃষিদপ্তরে চাষিরা খোঁজ খবর নিতে আসছিলেন। কিন্তু নিয়মের গেরোয় পড়ে অনেকেই আবেদন করতে না পেরে হতাশ। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য বলছে, জেলায় ৭৬ হাজার ৫০০ জন কৃষক বন্ধু প্রকল্পে সরকারি ভাতা পেতেন। পিএম কিষানে এখনও পর্যন্ত নাম নথিভুক্ত হয়েছে মাত্র ৩০ হাজার। পশ্চিম বর্ধমানের মতো শিল্পকেন্দ্রিক জেলায় যদি চিত্রটা এমন হয়, তাহলে কৃষি প্রধান জেলায় যে লক্ষ লক্ষ কৃষক সরকারি ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন, এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট মহল। 

    এক প্রশাসনিক কর্তা বলেন, পিএম কিষান চালু হয় ২০১৯-২০ সালে। ফলে ২০১৯ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি মানদণ্ড ধরা হয়েছিল। তারপর সাত বছর পেরিয়ে গিয়েছে। বহু নতুন চাষি তৈরি হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই সেই মানদণ্ড বজায় রাখার যৌক্তিকতা নেই। এখন দেখার রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেয়। বিষয়টি নিয়ে কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটস অ্যাপে পাঠানো মেসেজের জবাবও দেননি।  
  • Link to this news (বর্তমান)