ধর্ষণকাণ্ড: আর জি করের অভিযুক্ত সিআইএসএফ জওয়ানকে বরখাস্ত
বর্তমান | ১৮ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও বারাকপুর: ধর্ষণ কাণ্ডে ধৃত আর জি করের সিআইএসএফ জওয়ান পারুল আহমেদকে বরখাস্ত করা হল। তিনি কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। সেই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে। পুলিশ হেপাজত শেষ হওয়ার পর বুধবার ধৃতকে ফের বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতের আইনজীবী জামিনের পক্ষে সাওয়াল করেন। যদিও আদালত জামিন নাকচ করে ৬ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ২৩ জুন তাঁকে ফের আদালতে পেশ করা হবে।
সিআইএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর ইউনিটের ওই জওয়ান ২৭ মে থেকে কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন। তবে, ধর্ষণের মতো মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ায় সিআইএসএফ কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তারপর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। শুধু বরখাস্তই নয়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
এদিন আদালতে নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে। সরকার পক্ষের আইনজীবী যদুনাথ ঘোষ জানান, গোপন জবানবন্দি নেওয়ার পর বিচারক সেই জবানবন্দি দেখতে চান। তিনি সেই জবানবন্দি দেখে ছ’দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, মায়ের চিকিৎসার জন্য কয়েকবার আর জি কর হাসপাতালে গিয়েছিলেন তরুণী। পারুল আহমেদ তার সঙ্গে পরিচয় করে। তারপর চিনারপার্কে ডেকে পাঠায় দেখা করার জন্য। অভিযোগ, হোটেলে নিয়ে গিয়ে গত ৮ জুন ওই তরুণীকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করা হয়। ব্যাপক অত্যাচারও করা হয়। ৯ জুন রাতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে নারায়ণপুর থানা।
নির্যাতিতার আইনজীবী শাহিনা হক বলেন, তরুণীর অবস্থা সংকটজনক। দুবার হাসপাতালে ভরতি হতে হয়েছে। প্রচুর ক্ষত রয়েছে। তার হাত-পা দুমড়ে দেওয়া হয়েছিল। সুস্থ হতে এখনও সময় লাগবে। পুলিশ কিছু মেডিকেল রিপোর্ট আজ আদালতের জমা দিয়েছে। আমরা চাই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়ুক। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। যাতে অপরাধী শাস্তি পায়। সেই সঙ্গে হোটেলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, নমুনা সংগ্রহের ফরেনসিক রিপোর্ট জমা দেওয়া হোক।