• পুরীতে ধৃত প্রাক্তন কাউন্সিলার সুশান্ত
    বর্তমান | ১৮ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভিন রাজ্যে পালিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হল না।  তোলাবাজির মামলায় পুরী থেকে গ্রেপ্তার কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার সুশান্ত ঘোষ। একাধিকবার ডেরা পালটে তিনি থাকছিলেন পুরী ও সংলগ্ন এলাকায়। নির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে বুধবার বিকালে তৃণমূল নেতা সুশান্তবাবুকে ৩১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে পাকড়াও করা হয়। তিনি অন্যত্র পালানোর ছক কষেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ধৃতকে কলকাতায় আনার পর আজ, বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতে তোলার কথা।

    তৃণমূল জমানায় আনন্দপুর থানার অন্তর্গত ইএম বাইপাসের ধারে হকারদের কাছ থেকে মোটা টাকা ‘তোলা’র অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। হকারদের স্থায়ী দোকান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই টাকা তোলা হয় বলে অভিযোগ। ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার সুশান্ত ঘোষের নেতৃত্বে এই তোলাবাজি চলে। কিন্তু তাঁর রক্তচক্ষুর ভয়ে কেউ অভিযোগ জানানোর সাহস দেখাননি। পালাবদলের পর ১৩০ জন হকার তোলাবাজির অভিযোগ জানিয়ে আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা রুবি হাসপাতাল সংলগ্ন বাইপাসের ফুটপাতে হকারি করতেন। ফুটপাত ও সংলগ্ন জায়গায় সৌন্দর্যায়নের নাম করে তাঁদের বলা হয়েছিল, ওই জায়গা থেকে সরে যেতে। বিনিময়ে তাঁদের নতুন দোকান করে দেওয়া হবে। পরে দোকান তৈরির পর হকাররা তা চাইতে গেলে কাউকে বলা হয়, আগের দোকানের তুলনায় এখন জায়গা বেড়েছে। আবার কাউকে বলা হয়, দোকানের ভিতর বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। অভিযোগ, এই অজুহাত দেখিয়ে তাঁদের বাড়তি টাকা দিতে বলেন সুশান্ত ঘোষ। বাধ্য হয়ে তাঁর কথামতো টাকা দেন তাঁরা। প্রতিটি দোকানের কাছ থেকে তিন থেকে চার লক্ষ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই টাকা সুশান্তবাবুর ডান হাত বলে পরিচিত বচ্চন আদায় করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ওই টাকা সরাসরি সুশান্তবাবুর কাছে গিয়েছে বলে হকাররা দাবি করেছেন। তার ভিত্তিতে সুশান্ত ঘোষ সহ সাতজনের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ষড়যন্ত্র সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে আনন্দপুর থানা। পরে তদন্তভার যায় গোয়েন্দা বিভাগের হাতে।

    তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অভিযোগ হওয়ার পরই এলাকাছাড়া হন সুশান্তবাবু। তিনি পুরীতে একটি হোটেলে উঠেছিলেন। সেখানে আনন্দপুর থানার অফিসাররা পৌঁছালেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন এলাকায় এই প্রাক্তন কাউন্সিলারের গাড়ি ধরা পড়লেও তাঁর হদিশ মেলেনি। তবে চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। দিন সাতেক আগে তাঁর ডান হাত সুজিত কুমার ওরফে বচ্চন ধরা পড়ে। তিনি তদন্তকারীদের জানান পুরীতেই রয়েছেন সুশান্ত। সেখানে একাধিক পরিচিতের বাড়িতে ডেরা পালটে পালটে থাকছেন। বচ্চনের কাছ থেকে প্রাক্তন কাউন্সিলারের ওড়িশার নম্বর জোগাড় করে পুলিশ। তার সূত্র ধরে জানা যায়, পুরীর আশপাশেই রয়েছে অভিযুক্ত। সেইমতো লালবাজার থেকে টিম রওনা দেয় ওড়িশায়। টাওয়ার লোকেশন থেকে জানা যায়, পুরীর কাছে জাতীয় সড়ক লাগোয়া একটি গ্রামে রয়েছেন তিনি। সেখানে হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরায় সুশান্ত তোলাবাজির কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। 
  • Link to this news (বর্তমান)