• সাফাইয়ের ‘দ্রুততা’য় ছবিতে উধাও মেট্রোর পিলার! মোদির সফরের জন্য পুরসভার স্বচ্ছতার প্রচার বদলে গেল পিন কোডও
    বর্তমান | ১৮ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যোগ দিবস উপলক্ষ্যে শহরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আসার আগে জোরকদমে চলছে সাফাই কাজ। বিভিন্ন জায়গা পরিষ্কার করে কাজের প্রমাণস্বরূপ ছবি তুলে দেওয়া হচ্ছে পুরসভার ওয়েবসাইটে। সেই ছবিতেই ধরা পড়েছে বড়োসড়ো গোলমাল। 

    সাফাই কাজের প্রমাণস্বরূপ যে ছবি পোস্ট করা হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে, মেট্রোর একটি আস্ত পিলারই গিয়েছে হাপিস হয়ে। কোনো ছবিতে সাফাই কাজের আগের ছবির ঠিকানার সঙ্গে সাফাই কাজের পরের ছবির ঠিকানার মিল নেই, তা গিয়েছে বদলে। বিষয়টি সামনে আসার পর শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা। সমাজমাধ্যমে লাগাতার কটাক্ষ চলছে। অনেকের বক্তব্য, ‘কাজের ফাঁক ঢাকতে এআই মাধ্যমে ছবি বানিয়ে পোস্ট করা হয়েছে ওয়েবসাইটে।’ অবস্থা এমনই যে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের খবর চলে গিয়েছে পিছনে, সামনে ছবি কেরামতি বিতর্ক।

    পুরসভার ছবিতে দেখানো হয়েছে ৩০২৮, গড়িয়া স্টেশন রোড, বৈদ্যপাড়া এলাকায় আদিগঙ্গায় মেট্রো পিলারের নীচে জমে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। তা পরিষ্কারের কাজ চলছে। তারপর সাফাই কাজ শেষ করে যে ছবি দেওয়া হয়েছে তাতে মেট্রোর পিলারটার অস্তিত্বই নেই। যে ছবিটি দেওয়া তাতে ঠিকানা গিয়েছে বদলে। হয়েছে ৫৪ নম্বর গড়িয়া স্টেশন রোড, বৈদ্যপাড়া। ছবি কেরামতি এখানেই শেষ নয়।

    পুরসভার ফেসবুক পেজে দেওয়া অন্য একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, আদিগঙ্গার পাড়ে কালীঘাট অঞ্চলের ২২৩ নম্বর অনামি সংঘ ঘাটে কাদা জমে জমে সিঁড়ি অপরিচ্ছন্ন ও পিচ্ছিল। কিন্তু সাফাইয়ের পরের ছবিটিতে ঠিকানা সম্পূর্ণ উলটে গিয়ে হয়েছে ঈশ্বর গাঙ্গুলি স্ট্রিট। সেখানকার টালি নালা সংলগ্ন একটি পরিচ্ছন্ন ঘাটের ছবি দেওয়া হয়েছে। 

    এছাড়া ঘাট পরিষ্কারের ‘দ্রুততা’য় পাল্টে গিয়েছে ঠিকানা, এমনকি পিন কোডও। সেখানে গিয়ে দেখা গিয়েছে, দু’টি ঘাট পাশাপাশি। দু’টি ঘাটই পরিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু পুরসভার ফেসবুকে দু’টি ঘাটের আলাদা ছবি দেওয়ার বদলে দু’টিকে দেওয়া হয়েছে মিলিয়ে। ছবি বিভ্রাট নিয়ে পুরসভার আধিকারিকদের যুক্তি, জায়গাগুলি একই। সাফাই কাজ করা হয়েছে। কোনো ভুল ছবি দেওয়া হয়নি। আসলে ছবি তোলার সময় একটু এদিক ওদিক স্থান বদল করলেই জিপিএস লোকেশন বদলে যায়। তা শুনে আধিকারিকদের কাছে প্রশ্ন ছিল, তাহলে ঠিকানা কীভাবে বদল হল? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মেলেনি।

    অমিত ঘরামি নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে কলকাতা পুরসভার সাইটের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘মেট্রোর পিলারটাই পরিষ্কার করে দিয়েছে!’ সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘একেই বলে পরিবর্তন! ১৭ মিনিটে একটি ছবির জিপিএস লোকেশন, ঠিকানা, এমনকি পিন কোড পর্যন্ত পালটে গেল!’  
  • Link to this news (বর্তমান)