• ১৬ পুরসভা জুড়ে গ্রেটার বারাকপুর
    বর্তমান | ১৮ জুন ২০২৬
  • বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: বারাকপুর মহকুমার ১৬টি পুরসভা ও লাগোয়া কিছু পঞ্চায়েত এলাকা নিয়ে গ্রেটার বারাকপুর মিউনিসিপাল কর্পোরেশন গড়তে চাইছে বিজেপি সরকার। তার জন্য প্রতিটি পুরসভার কাছে আয়-ব্যয়, কর্মীসংখ্যাসহ নানা খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কর্পোরেশনের বিষয়ে প্রত্যেক পুরসভাকে পর্যবেক্ষণ এবং মতামত জানাতে বলা হয়েছে। 

    ১৩ জুন বারাকপুরের মহকুমাশাসক যাদব সূর্যভানু আচ্ছেলাল ১৬টি পুরসভার চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের একটি চিঠি পাঠান। তাতে বলা হয়, বারাকপুর মহকুমার সবক’টি পুরসভা ও কিছু শহর লাগোয়া পঞ্চায়েতকে নিয়ে গ্রেটার বারাকপুর মিউনিসিপাল কর্পোরেশন গঠনের প্রস্তাব পুরদপ্তরে জমা পড়েছে। সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। তাই পুরসভাগুলিকে জরুরি ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য পাঠাতে হবে। পুরসভার আয়তন, জনসংখ্যা, বিগত তিনটি আর্থিক বছরে আয়-ব্যায়ের হিসাব, পুরসভার মোট সম্পত্তি ও ঋণের পরিমাণ, কর্মীসংখ্যা, অনুমোদিত পদ ও শূন্যপদের সংখ্যাসহ আরও কিছু তথ্য দিতে হবে। এছাড়াও প্রস্তাবিত কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ‘বোর্ড অব কাউন্সিলারস’-এর মতামত সংক্রান্ত রেজোলিউশন কপি বা প্রশাসকের মতামত চাওয়া হয়েছে।

    নৈহাটি, হালিশহর থেকে শুরু করে দক্ষিণ দমদম পর্যন্ত বারাকপুর মহকুমার মধ্যে রয়েছে ১৬টি পুরসভা, একটি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত। বিস্তীর্ণ এলাকার জনবৈচিত্র ও অর্থনৈতিক চরিত্র ভিন্ন। পুরসভাগুলির আর্থিক পরিকাঠামো, আয়-ব্যয়, কর্মীসংখ্যা, নাগরিক পরিষেবার মধ্যে ফারাকও চোখে পড়ার মতো। যেমন, দক্ষিণ দমদম ও দমদম পুরসভার আর্থিক কাঠামো বাকি পুরসভাগুলির চেয়ে অনেকটাই পোক্ত। আবার বরানগর, পানিহাটি, উত্তর দমদম পুরসভা আর্থিক সংকটে অস্থায়ী কর্মীদের মাইনেই দিতে পারছে না নিয়মিত। রাস্তাঘাট, আলো, পানীয় জল, জঞ্জাল অপসারণ, নিকাশির মতো পরিষেবাও পুরসভা ভেদে বদলে যায়। এই অবস্থায় পুরসভাগুলি পরিচালনার ত্রুটি শুধরে নাগরিক পরিষেবা সুনিশ্চিত করলে ভালো, নাকি গ্রেটার বারাকপুর কর্পোরেশন তৈরি হলে ভালো, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এক পক্ষের বক্তব্য, কর্পোরেশন হলে সরকারি আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি ও নাগরিক পরিষেবার মানোন্নয়নের একাধিক উদাহরণ আছে। অন্য পক্ষ বলছে, কর্পোরেশন হলে নতুন করে তৈরি হবে একাধিক সমস্যা। যেমন, সদর কার্যালয় কোনো একটি জায়গাতেই হবে। ফলে নাগরিকদের যাতায়াতের ঝক্কি বাড়বে। তাছাড়া, সম্পত্তি কর বৃদ্ধিরও আশঙ্কা থাকে। 

    দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান কস্তুরী চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কাছে যে তথ্য চাওয়া হয়েছিল, সেগুলি দ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিশ্চয়ই আরও  ভালোর জন্য এই সিদ্ধান্ত।’ সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সায়নদীপ মিত্র বলেন, ‘এসব আসলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা। নাগরিক পরিষেবাও ব্যাহত হবে।’ দমদমের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি বলেন, ‘শুধুমাত্র আশঙ্কা ও বিরোধিতার জায়গা থেকে কিছু মানুষ বিরোধিতা করতেই পারেন। কিন্তু কর্পোরেশন হলে নাগরিক পরিষেবার মান উন্নত ও আধুনিক হবে।’ কামারহাটির বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি মদন মিত্রর কথায়, ‘কর্পোরেশনের প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেই হয়েছিল। তখন সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কামারহাটিতে হবে হেড কোয়ার্টার। তবে যা-ই হোক না কেন, অস্থায়ী পুরকর্মীদের মাইনে বাড়াতে হবে।’ এদিকে, হুগলির চুঁচুড়া পুরসভাকে কর্পোরেশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক সুবীর নাগ। 
  • Link to this news (বর্তমান)