• শিবিরে বিভ্রান্তি ফর্ম নিয়ে, রসিদ মিলছে না বার্ধক্য ভাতার
    বর্তমান | ১৮ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জনকল্যাণ শিবিরে বার্ধক্য ভাতা প্রকল্পের আবেদনপত্র ঘিরে জোর বিতর্ক! প্রথম দিন তো এই প্রকল্পের ফর্মই আসেনি। সেই খবর জানাজানি হতেই দ্বিতীয় দিন তড়িঘড়ি ফর্ম পাঠিয়ে তা দেওয়া শুরু হয়। তাতেও বিপত্তি কমেনি। কারণ, ফর্মের প্রথম পাতায় আবেদনকারীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লেখার জায়গা রয়েছে। তার ঠিক পিছনের পাতায় ছাপা ‘প্রাপ্তিস্বীকার’ রসিদ বা ‘অ্যাকনলেজমেন্ট’ স্লিপ। ফলে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার প্রমাণস্বরূপ সেই রসিদ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার এমন চিত্র ধরা পড়েছে রাজ্যের একাধিক জনকল্যাণ শিবিরে। আর সেই কারণে বার্ধক্য ভাতার ফর্ম জমা করেও বুক ভরা সংশয় নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে প্রবীণদের। এই পরিস্থিতিতে জনকল্যাণ শিবির আরও একদিন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ বৃহস্পতিবারও চলবে বার্ধক্য ভাতা সহ ৫৪টি প্রকল্পের আবেদনপত্র বিতরণ এবং তা জমা নেওয়ার কাজ। 

    সাধারণত কোনো প্রকল্পের নাম নথিভুক্তির আবেদন করলে ‘প্রাপ্তিস্বীকার’ হিসাবে ফর্মেরই একটি অংশ কেটে দেওয়া হয় আবেদনকারীকে। ফর্মের সেই অংশে থাকে সরকারি স্ট্যাম্প এবং নির্দিষ্ট আধিকারিকের স্বাক্ষর, যাতে পরবর্তীকালে কোনো সমস্যা হলে সেটিকে প্রমাণ হিসাবে দেখানো যায়। বার্ধক্য ভাতার ক্ষেত্রে সেই রসিদ নিয়েই সমস্যা দেখা গিয়েছে রাজ্যজুড়ে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে। এমনকি কলকাতা এবং তার সংলগ্ন শহরতলিতেও এদিন অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ ছাড়াই ফর্ম জমা দিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে আবেদনকারীদের। প্রতিবাদ জানালে সাদা কাগজে ‘আবেদনপত্র জমা পড়েছে’ লিখে এবং তাতে সামান্য ‘ইনিশিয়াল’ করে আবেদনকারীর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে অনেক জায়গায়। সমস্যা এড়াতে কিছু জেলায় তড়িঘড়ি নতুন করে আবেদনপত্র ছাপানোও হয়েছে বলে খবর। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বলা হচ্ছে, ‘রসিদ না পেলেও সমস্যা নেই। আপনারা আবেদনপত্র জমা দিয়ে বাড়ি চলে যান, রাজ্য সরকারে প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তা যাচাই করে আসবে।’ একটি শিবিরের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তড়িঘড়ি ফর্ম ছাপতে গিয়েই গণ্ডগোল হয়েছে। এই চরম ভুলের জন্য কৈফিয়ত দিতে হচ্ছে শিবিরে কর্মরত আধিকারিকদেরই।a
  • Link to this news (বর্তমান)