• ৩০ জুন পর্যন্ত হকার উচ্ছেদ নয়, রেলকে জানাল হাইকোর্ট
    বর্তমান | ১৮ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জুন মাস পর্যন্ত হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর, ডানকুনি, গুমা, বনগাঁ, দুর্গানগর, মথুরাপুর, যাদবপুরসহ যতগুলি স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদের নোটিস নিয়ে মামলা হয়েছে, জুন মাস পর্যন্ত সেখানে নতুন করে আগের নোটিস কার্যকর করা যাবে না। রেলের জমিতে জবরদখল উচ্ছেদ সংক্রান্ত ২৫টি মামলায় বুধবার এই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

    আদালত জানিয়েছে, আপাতত উচ্ছেদ করা যাবে না। জমির অবস্থান ও রেকর্ড দেখা ছাড়াও আগামী দিনে প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে কেন নোটিস জারি হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে রেলকে। এর মধ্যে যাঁদের কোনো সময়ে রেল বসার অনুমতি দিয়েছিল, সেসব ক্ষেত্রে আগামী দিনে রিপোর্ট দিয়ে রেলকে তাদের অবস্থান জানাতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে উচ্ছেদ করার আগে বিকল্প জায়গার বিষয় বিবেচনা করে জানাতে হবে বলে এদিন নির্দেশে জানিয়েছে বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যর বেঞ্চ।

    এদিন শুনানি পর্বে মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘যেভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তাতে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। কেন্দ্র বা রাজ্য কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। জীবনের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সমাজের দুর্বল শ্রেণির মৌলিক অধিকার কোনো কারণ দেখিয়ে খর্ব করা যায় না। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত তাঁদের সাহায্য করা।’ যদিও  বিচারপতি ভট্টাচার্যর প্রশ্ন ছিল, ‘রেলের জায়গা, প্ল্যাটফর্ম যদি দখল করে দোকান বসে, সে ক্ষেত্রে রেল কি তাদের তুলবে না? কিছু ক্ষেত্রে রেল স্টল করে বসার ব্যবস্থা করেছিল। তাদের উচ্ছেদের ঘটনা কি আছে? লাইসেন্স আছে এমন লোকেদের তুলেছে এটা বলতে পারবেন?’ তবে অভিযোগ ওঠে  বেশ কিছু জায়গায় রেলস্টেশন সংলগ্ন জায়গায় নোটিস দেওয়া হলেও, বাস্তবে সেই জমি রেলের কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই অবস্থায় আগে রেলকে এই সব জায়গায় সরেজমিনে দেখে ‘ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন’ করে আগামী দিনে রিপোর্ট দিতে হবে বলে পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন বিচারপতি ভট্টাচার্য।
  • Link to this news (বর্তমান)