সোমনাথ মণ্ডল
ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে ঝালমুড়ির ঠোঙা দেখেছিল দেশ। এ বার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ‘জাঙ্ক ফুড আউট, দেশি ঝালমুড়ি ইন ’ মন্ত্রেই যেন এগোচ্ছে আয়ুষ মন্ত্রক।
যোগ দিবসে ‘আয়ুষ আহার’-এর মেনুতে জায়গা করে নিয়েছে বাংলার মুচমুচে ঝালমুড়ি। তার সঙ্গে থাকছে জোয়ার–বাজরার বিস্কুট, ডাবের জল, কলা ও গুড়-বাদামের চিক্কির মতো দেশি ‘এনার্জি কম্বো’। শুধু স্বাদের কথা ভেবে নয়, পুষ্টিগুণের সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ খাদ্যতালিকা তৈরি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবার মানে যে বিদেশি ফল কিংবা দামি ‘সুপারফুড’, এমন ধারণা ভাঙার ক্ষেত্রে আয়ুষ মন্ত্রকের এমন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট পরিমাণে স্থানীয় এবং সহজলভ্য খাদ্যদ্রব্যের মধ্যেও যে যথেষ্ট পুষ্টির ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া সম্ভব, ঝালমুড়ির অন্তর্ভুক্তি সেই বার্তা দিচ্ছে। যোগ দিবসে পশ্চিমবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র। আয়ুষ মন্ত্রক আবার যোগ দিবসকে শুধুমাত্র এক দিনের কর্মসূচির গণ্ডিতে আটকে রাখতে চাইছে না। ভারতীয় খাদ্যসংস্কৃতির স্বাস্থ্যসম্মত ও সহজ দিকগুলি তারা তুলে ধরতে চাইছে।
এতদিন ট্রেনের জানালার ধারে বসা কোনও যাত্রীর হাতে কিংবা বিকেলের আড্ডায় সঙ্গী হতো ঝালমুড়ি। তবে স্বাস্থ্য সচেতন খাদ্যতালিকার আলোচনায় খুব একটা ‘সুনাম’ ছিল না। বিধানসভার নির্বাচনের সময়ে ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর হাতে যে দিন থেকে ঝালমুড়ির প্যাকেট উঠেছে, যেন সে দিন থেকেই সবার নজর পড়েছে এই খাবারের উপরে। দিল্লিতে এখন ঘটা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও ঝালমুড়ি খাচ্ছেন।
আগামী ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্য সফরে আসছেন। ২১ তারিখ যোগ দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সব ঠিকঠাক থাকলে ঝালমুড়ি–সহ ‘আয়ুষ আহার’ তাঁকেও দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর। আয়ুষ মন্ত্রক মনে করছে, অল্প পরিমাণ মুড়িতে ক্যালোরি এবং ফ্যাটের পরিমাণ কম। আবার গুড়–বাদামের চিক্কি থেকে মিলবে প্রোটিনের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। কলা শরীরে পটাশিয়ামের জোগান দেয়।
অন্য দিকে, ডাবের জল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করবে। যোগ ব্যায়ামের পরে শরীরকে হালকা অথচ কর্মক্ষম রাখতে সে কারণে দেশি ‘এনার্জি কম্বো’ই যোগ চর্চাকারীদের হাতে পৌঁছবে। যদিও বাঙালির কাছে নতুন কিছু নয়। বহু দিন ধরেই মুড়ি, বাদাম কিংবা গুড়-জাতীয় খাবার দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অংশ বাঙালির। এ বার সেই পরিচিত খাবারই ‘যোগ’সূত্রে আর্ন্তজাতিক মঞ্চেও উঠে আসছে।