• এবার ডিম খেলেন এই নেতা!
    আজকাল | ১৮ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হলেও এই প্রথমবার মুর্শিদাবাদের কোনও পুরসভার চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বুধবার রাতে মুর্শিদাবাদের শতাব্দী প্রাচীন জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষকে পুরসভার ভেতর থেকেই গ্রেপ্তার করে জিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে উঠেছে।

    দেশ জোড়া জিয়াগঞ্জের শহরের খ্যাতি বিখ্যাত গায়ক অরিজিৎ সিং-এর বাসস্থান হিসেবে। আরিজিতকে একঝলক দেখার জন্য প্রতিবছর একদিকে যেমন তাঁর অসংখ্য গুণমুগ্ধ এই শহরে আসেন, তেমনই আমির খান থেকে শুরু করে একাধিক বলিউড এবং টলিউডের 'সেলিব্রিটি'কে দেখেছে এই শহর। সেই শহরের পুরসভার চেয়ারম্যানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। 

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক দুর্নীতি ও পুরসভার আর্থিক অনিয়ম-সহ বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছে প্রসেনজিৎ ঘোষের। তাঁর বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির একাধিক অভিযোগও রয়েছে। সেই তদন্তেই বুধবার রাতে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি জিয়াগঞ্জ থানার পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। আজই পুরসভার চেয়ারম্যানকে আদালতে পেশ করবে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁর পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হবে পুলিশের তরফে। এরপর তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে।

    পুরপ্রধানের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ যখন প্রসেনজিৎ ঘোষকে গাড়িতে তুলছিল, তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ‘চোর চোর’ স্লোগান দেয়। কেউ কেউ পচা ডিমও ছোড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা গ্রেপ্তারের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

    উল্লেখ্য, জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভায় মোট ১৭টি ওয়ার্ড রয়েছে। গত পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ১৫টি ওয়ার্ডে জয়লাভ করে। বাকি দু'টি ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থীরা জয়ী হলেও পরবর্তীকালে তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। ফলে শতাব্দী প্রাচীন এই পুরসভার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে রয়েছে। 

    প্রসেনজিৎ ঘোষ এই পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং পরে চেয়ারম্যান হন। এর আগে একাধিক তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হলেও পুরসভার চেয়ারম্যান পর্যায়ের কাউকে গ্রেপ্তারের ঘটনা মুর্শিদাবাদ জেলায় এই প্রথম। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।

    গ্রেপ্তার হওয়া জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে কয়েকশো কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক শুভেন্দু দাস। তিনি বলেন, “পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। পুরসভায় চলা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পগুলির প্রত্যেকটি থেকেই তিনি কাটমানি নিয়েছেন।”

    তাঁর দাবি, "প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পেতে এলাকার বাসিন্দাদের ৬০ -৭০ হাজার টাকা করে কাটমানি দিতে হত পুরপ্রধানকে। এছাড়া স্বচ্ছ ভারত মিশনে পুর এলাকায় নির্মিত সমস্ত শৌচালয়ের টেন্ডার একজনই পেয়েছেন। তিনি হলেন পুরপ্রধানের ঘনিষ্ঠ অপূর্ব মুখার্জি।"

    শুভেন্দু দাস আরও বলেন, "পুরসভার যে কোনও সরকারি কাজের টেন্ডার কোনও রকম বিজ্ঞাপন ছাড়াই পাস হয়ে যেত। এমনকি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা যাতে এলাকার মা-বোনেরা না পান, তার ব্যবস্থাও করেছিলেন পুরপ্রধান। কয়েক হাজার জমা দেওয়া ফর্ম এখনও পুরসভার ঘরে পড়ে রয়েছে, কোনও কাজ হয়নি।"

    এছাড়া প্রাচীন শহর জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জে প্রচুর দেবোত্তর সম্পত্তি রয়েছে। শুভেন্দু দাসের অভিযোগ, "পুরপ্রধান ও তাঁর সহযোগীরা জাল দলিল তৈরি করে সেই সব দেবোত্তর সম্পত্তি লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেছেন।" সবমিলিয়ে প্রসেনজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে কয়েকশো কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন বিজেপি যুব মোর্চার নেতা।
  • Link to this news (আজকাল)