• মমতার পুরনো ব্যক্তিগত রক্ষীদের সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ,CM-এর কাছে PSO-দের ফেরানের আর্জি কুণালের
    আজ তক | ১৮ জুন ২০২৬
  • প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২০ বছরের পুরনো ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী অর্থাৎ PSO-দের সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তোলপাড়। এই মর্মে ডেরেক ও'ব্রায়েন কালীঘাটের ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের সামনে থেকে একটি ভিডিও করেন। তাঁর অভিযোগ, মমতার বাড়িতে কোনওরকম নিরাপত্তা আর নেই। 

    ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সন্ধ্যায়। তৃণমূল সাংসদকে দেখা যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে প্রবেশ করতে। তিনি কিছুক্ষণের মধ্যেই বেরিয়ে এসে জানান,   মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২০ বছরের পুরনো PSO-দের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। যে সময়ে মমতা সাংসদ ছিলেন, তখন থেকে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন যাঁরা, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর যাঁদের পাঠানো হয় তাঁদের চেনেন না মমতা। ডেরেক বলেন,'রাত সাড়ে ৯টায় কয়েকজন অচেনা অফিসারকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল।' যদিও তাঁদের ফেরত চলে যেতে বলা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে। 

    এদিকে, আপাতত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কোনওরকমের পুলিশি নিরাপত্তা আর নেই বলেই জানিয়েছেন ডেরেক। তিনি বলেন, 'আমরা ২ জন নিরাপত্তারক্ষী রেখেছি। CCTV ঢেকে ফেলা হয়েছে সাদা টেপ দিয়ে।' ওই ভিডিওতেই গেটে তালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় ডেরেককে। 

    সাংসদ সাগরিকা ঘোষও এই প্রসঙ্গে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন। কেন দীর্ঘদিনের কর্মীদের প্রত্যাহার করা হল, কেনই বা গভীর রাতে মমতাকে নিরাপত্তাহীন করে দেওয়া হল, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের PSO-দের নাম উল্লেখ করে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, 'প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে যা ঘটল, তা দুর্ভাগ্যজনক ও অনভিপ্রেত। বাড়ি কার্যত নিরাপত্তাহীন। দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাকর্মীদের সরানো হয়েছে নেত্রীর মতো VIP-কে না জানিয়ে। পুলিশ প্রশাসনের যে পর্যায়তেই এই সিদ্ধান্ত হোক, প্রতিবাদ করে পুনর্বিবেচনার দাবি রাখছি। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অনুরোধ, নেত্রীর দীর্ঘদিনের PSO স্বরূপ গোস্বামী, কুসুম দ্বিবেদী সব পুরনো সিস্টেম আবার কার্যকর করুক সরকার। আপনি বিষয়টা দেখুন।'

    এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর রাতেই IT সেল প্রধান উপাসনা চৌধুরী সহ তৃণমূলের  একাধিক কর্মী কালীঘাটের বাড়ির সামনে পৌঁছন। তাঁদের বক্তব্য, PSO ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা মমতার বাড়ি পাহারা দেবেন। 

    মুখ্যমন্ত্রী পদ চলে যাওয়ার পরই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলি থেকে গার্ডরেল সরিয়ে দেওয়া হয়। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মুখে যে পুলিশ কিয়স্ক থাকত এবং সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত বন্ধ ছিল, তা ফের চালু করা হয়। যদিও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারী একটি বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় যাতে কোনও গাফিলতি না হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রাপ্য সম্মান যাতে বজায় থাকে, সেদিকে নজর দেওয়ার কথা বলেছিলেন শুভেন্দু। 

    বুধবার সকালের দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির ভোলবদল হয়। বাড়ির সামনে উঠোনে বসানো হয়েছে 'ভিউ কাটার'। 

     
  • Link to this news (আজ তক)