• বারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অঞ্চলে হচ্ছে না জনকল্যাণ শিবির, ভোগান্তি
    বর্তমান | ১৮ জুন ২০২৬
  • সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: সোমবার থেকে শুরু হয়েছে জনকল্যাণ শিবির। বহু মানুষ সেখানে যাচ্ছেন। বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেতে লম্বা লাইনও দিচ্ছেন। তবে বারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় জনকল্যান শিবির খোলা হয়নি। ফলে এই অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ পড়েছেন ভয়ানক সমস্যায়। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে দুয়ারে সরকার প্রকল্প হয়েছে। সে সময়ও প্রকল্পের সুবিধা পাননি এই এলাকার বাসিন্দারা। তেমনই অবস্থা এবারও। এখন জনকল্যান শিবিরের সুবিধা পাচ্ছেন না এখানকার মানুষ। এই নিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সে কথা জানিয়েওছেন তাঁরা।

    এই এলাকার বাসিন্দা হলেন প্রবীণ কাশীনাথ সাহা। তিনি বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড নির্বাচিত না থাকায় এখানকার মানুষ সমস্তরকম পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন। রাজ্য সরকার জনকল্যাণ শিবির চালু করেছে। আমাদের পাড়ার ঠিক পাশে বারাকপুর পুরসভা এবং উত্তর বারাকপুর পুরসভা জনকল্যাণ শিবির করছে। কিন্তু আমাদের এখানে শিবির হচ্ছে না। ফলে সদরবাজার, আর্দালি বাজার সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’ প্রবীণ কাশীনাথ এদিন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অফিসে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে এসেছেন বলেও জানালেন।

    ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে যায়। তখন ওই বোর্ডের অধীনে ছিল সাতটি ওয়ার্ড। তারপর থেকে বোর্ডে কোনো ভোট হয়নি। প্রতিবছর ভোটার তালিকার সংশোধন হয় সাধারণত মে, জুন মাসে। বর্তমানে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে। এই মুহূর্তে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অথরিটির কোনো সিইও নেই। এর আগে ছিলেন জ্যোতি কাপুর। বর্তমানে তিনি বদলি হয়ে চলে গিয়েছেন মধ্যপ্রদেশ। ফলে সম্পূর্ণ অচলাবস্থা চলছে বারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায়। ৫০ হাজারের কম জনসংখ্যা হওয়ায় এটি দ্বিতীয় ক্যাটাগরির ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড। আর দেশের মধ্যে সবথেকে প্রাচীন। 

    জানা গিয়েছে, এই বোর্ড প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে জলকল্যাণ শিবির করার ক্ষেত্রে কোনোরকম নির্দেশিকা আসেনি। যদি কোনো নির্দেশিকা আসে তাহলেই জনকল্যাণ শিবির করা হবে। সেই কারণে উত্তর বারাকপুর পুরসভার সঙ্গে এই ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অঞ্চলকে যুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক ও রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং। জানা গিয়েছে, তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)