বৈশালী ডালমিয়ার সঙ্গে সাড়ে ৪ লক্ষের প্রতারণা, তদন্ত শুরু
বর্তমান | ১৮ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্পত্তির মিউটেশন ও ট্যাক্স বাবদ ৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা মিটিয়ে দিয়েছিলেন। রাজ্য সরকারের ভূমিরাজস্ব দপ্তরের তরফে ই-রসিদও পেয়েছেন। কিন্তু ‘স্টেটাস’ যাচাই করতে গিয়ে দেখলেন, আদৌ কোনো পেমেন্ট হয়নি! তাহলে সরকারি ই-চালান পোর্টালের রসিদ কীভাবে জেনারেট হল? এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে শেক্সপিয়র সরণি থানার দ্বারস্থ হয়েছেন শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তথা বালি বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া। তিনি বিসিসিআইর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জগমোহন ডালমিয়ার কন্যা। ১৫ জুন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বৈশালী। তার ভিত্তিতে ১৬ জুন প্রতারণা ও জালিয়াতি, পরিচয় গোপনসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। সরকারি ই-চালান পোর্টাল হ্যাক করে এই প্রতারণা করা হয়েছে কি না, তাও তদন্তকারীরা খোঁজ নিয়ে দেখছেন।
বৈশালীদেবী পুলিশকে জানিয়েছেন, বেহালা থানা এলাকার বি এল শাহ রোডে তাঁর একটি বাড়ি রয়েছে। সেই বাড়ির মিউটেশন ও বকেয়া ট্যাক্সের বিল মেটানোর জন্য প্রণব কয়াল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। প্রণব নিজেকে কলকাতা পুরসভার আধিকারিক বলে পরিচয় দেন। সেই সূত্রে তিনি সহজেই ওই বাড়ির বকেয়া রাজস্ব মিটিয়ে দিতে পারবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এই কাজে প্রণব তাঁর দুই সহযোগীকেও যুক্ত করেন। মূল অভিযুক্ত প্রণব বাড়ির মালকিনকে জানান, মিউটেশন ও বকেয়া ট্যাক্স বাবদ ভূমি রাজস্ব দপ্তরের কাছে জমা করতে হবে মোট ৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। সেই প্রক্রিয়া মোতাবেক মিউটেশনের জন্য যাবতীয় কাগজপত্রে সই করেন অভিযোগকারিণী। তাঁর অভিযোগ, সেই নথি জমার পরিপ্রেক্ষিতে ‘রিসিভড কপি’ দেওয়া হয়েছিল। তাতে রয়েছে ভূমি ও ভূমিরাজস্ব দপ্তরের সিলমোহর। তাই গোটা বিষয়ে কোনোরকম সন্দেহ হয়নি বৈশালীদেবীর। এরপরই টুইস্ট! পেমেন্টের জন্য একটি লিঙ্ক পাঠানো হয় তাঁকে। সেই লিঙ্কে ঢুকে সরকারি পোর্টালে বকেয়া মেটানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন বৈশালীদেবী। অভিযোগ, তখনই প্রণব জানান, বকেয়া ৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা তাঁর সহযোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিতে। সেই মতো টাকা ‘ট্রান্সফার’ করতেই কয়েক মিনিটের মধ্যে গভর্নমেন্ট রিসিপ্ট পোর্টাল সিস্টেমে জেনারেট হওয়া ৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার রসিদ পাঠিয়ে দেওয়া হয় ব্যবসায়ীকে। তৎকালীন রাজ্য সরকারের লোগোও রয়েছে তাতে। পেমেন্ট হিস্ট্রি, পেমেন্ট স্টেটাস, সরকারি কিউ আর কোড—সবই আছে। পরবর্তী পেমেন্টের দিন ও টাকার পরিমাণ দেখতে পোর্টালে দেখতে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় অভিযোগকারিণীর। দেখা যায়, বকেয়া একই আছে। কোনো টাকা মেটানো হয়নি।
এরপরেই প্রণব কয়াল ও তাঁর দুই সহযোগী রোহিত বাগ এবং সামসুদ্দিন জমাদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ব্যবসায়ী। কীভাবে সরকারি ই-চালানের ব্যবস্থা করা হল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। গোটাটাই জাল কারবার নাকি আদতে সরকারি ই-চালান সিস্টেম হ্যাক করেছে অভিযুক্তরা—সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।