থলপতি বিজয়ের সঙ্গে ইদানিং বেশ সুসম্পর্ক চলছে রাহুল গান্ধীর। তামিলনাড়ুতে যেভাবে যুবসমাজের মধ্যে আলোড়ন ফেলে তিনি ক্ষমতা দখল করেছেন, তাতে ভালোরকম প্রভাবিত হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। সম্ভবত সেকারণেই এবার তিনিও বিজয়কে অনুসরণ করার চেষ্টা করছেন। বুধবার রাতে রাজস্থানের কোটায় পড়ুয়াদের ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ অর্থাৎ ‘পড়ুয়াদের হুঙ্কার’ সভায় যে অবতারে বিরোধী দলনেতা ধরা দিলেন, সেটা কোনও সুপারস্টারের চেয়ে কম নয়।
নিট-ইউজির প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের দেশব্যাপী আন্দোলনের অংশ হিসাবে রাজস্থানের কোটার একটি ওপেন থিয়েটারে পড়ুয়া সম্মেলনের আয়োজন করে কংগ্রেস। ওই সভায় কয়েক হাজার পড়ুয়া ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। চমকপ্রদভাবে ওই সভায় রাহুলের এন্ট্রি হয় রীতিমতো সুপারস্টারের মতো। বড় জায়ান্ট স্ক্রিনের সামনে খোলা মঞ্চ সাজানো হয়েছিল। অনেকটা কোনও সুপারস্টারের মঞ্চ সঞ্চালনার ধাঁচে সঞ্চালনা করা হচ্ছিল। সেই মঞ্চে রাহুলের এন্ট্রির সঙ্গে সঙ্গে শুরু লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। উপস্থিত পড়ুয়ারাও ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বেলে স্বাগত জানালেন বিরোধী দলনেতাকে। এক লহমায় দেখে মনে হতে পারে কোনও সুপারস্টারের এন্ট্রি হচ্ছে। আসলে জেন জির মন পেতে তাঁদের মতো করেই নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করছেন বিরোধী দলনেতা।
এদিন পড়ুয়াদের ওই মঞ্চে রাহুল বলেন, “বর্তমানে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা একটা তোলাবাজির মঞ্চ হয়ে গিয়েছে। আজ এখানে ৩০০০ পড়ুয়া রয়েছে। এই ৩০০০ জনের মধ্যে মাত্র এক জন আইএএস অফিসার হবে। ৩০ জন আইআইটি-তে ভর্তির সুযোগ পাবে। আর মাত্র ১৮০ জন ডাক্তার হবে। কিন্তু বাকিরা? ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা আসলে ‘বাছাই করার পদ্ধতি’ নয়, বরং ‘বাদ দেওয়ার পদ্ধতি’ এটা সিস্টেম অফ রিজেকশন।” বিরোধী দলনেতা বলছেন, “আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে, যেন দেশের কোনও পড়ুয়া কখনও এমন পরিস্থিতিতে না পড়ে, যেখানে তাকে আত্মহত্যা করার কথা ভাবতে হতে পারে।”
কোটার পর ১০ জুলাই এলাহাবাদ, ১১ জুলাই পাটনা ও ১৪ জুলাই দিল্লিতে ওই একই ধাঁচের অনুষ্ঠান করবেন রাহুল গান্ধী। ছাত্রছাত্রী, পরীক্ষার্থী, যুব সংগঠন, শিক্ষাবিদ এবং পরীক্ষা কেলেঙ্কারিতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত সকলকে একত্রিত করা হবে এই কর্মসূচিতে। দেশজুড়ে চলা এই কর্মসূচিতে কংগ্রেসের সকল সংগঠনকে দেশব্যাপী পড়ুয়াদের একজোট করার বার্তা দিয়েছেন রাহুল।