রায়গঞ্জ নয়, শিলিগুড়িতে এইমস? ফাঁসিদেওয়া, মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে জমি দেখা শুরু
প্রতিদিন | ১৮ জুন ২০২৬
উত্তরবঙ্গে এইমস গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রথম ধাপ। শিলিগুড়িতেই গড়ে উঠতে চলেছে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর শাখা। সেখানে মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে একটি এবং পাশের ফাঁসিদেওয়ায় দু’টি জায়গা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই সমীক্ষার চূড়ান্ত কাজ শুরু হবে বলে সরকারি সূত্রে খবর। তবে সুলভ জমি, বিমান, সড়ক এবং রেল যোগাযোগ ভালো হওয়ায় কিছুটা হলেও এগিয়ে রয়েছে ফাঁসিদেওয়া। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উত্তরবঙ্গে এইমস গড়া নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলেছেন। এই প্রকল্পের সুবিধা শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, পাশের রাজ্যগুলিও পাবে।
একটি পূর্ণাঙ্গ এইমস ক্যাম্পাস সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ একর জমির উপর নির্মিত হয়। ন্যূনতম ৭৫০ থেকে ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন-সহ নানা চিকিৎসার পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ওই জমি প্রয়োজন। বিজেপি এবার বিধানসভা নির্বাচনের সংকল্পপত্রে উত্তরবঙ্গে এইমস গড়ার প্রতিশ্রুতি রেখেছিল। সরকার গঠনের পরই তা নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়। এরই মধ্যে শিলিগুড়িতে জেলা বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখান থেকেও রাজ্যের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আসে।
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বুধবার জানান, “তিনটি জায়গা প্রাথমিকভাবে দেখা হয়েছে উত্তরবঙ্গের এইমসের জন্য।” জেলা কোর কমিটির যে বৈঠকে এইমস নিয়ে আলোচনা হয়, সেখানে ছিলেন দলের কার্যকর্তা ও বিধায়কদের অনেকেই। শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি অরুণ মণ্ডলকে ফোনে ধরলে বলেন, “আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। রাজ্য বিষয়টি দেখবে। মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এবং ফাঁসিদেওয়ায় জমি রয়েছে। তার কোথাও রাজ্য এইমস গড়তেই পারে।”
প্রশাসন সূত্রে খবর, যেগুলি নিয়ে আলোচনা চলছে তার সবই সরকারি জমি। ওইসব এলাকায় এক লপ্তে অনেকটা পাওয়া যাবে এমন সরকারি জমির কী চরিত্র, কোনও আইনি জট রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। তবে তা রয়েছে প্রাথমিকস্তরেই। ফাঁসিদেওয়ার বিধায়ক দুর্গা মুর্মু বলেন, “আমার বিধানসভা এলাকায় প্রচুর জমি রয়েছে। বাগডোগরা বিমানবন্দর কাছেই। মনি চা বাগান থেকে শুরু করে কয়েকটি বাগান রয়েছে। সবই সরকারি কিন্তু লিজে দেওয়া। তার মধ্যে অনেকটা জমি রয়েছে। জালাস নিজামতারা পঞ্চায়েতে আমবাগান বলে একটি জায়গা রয়েছে প্রায় ৬৩ একর। সেগুলি নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। সবই জাতীয় সড়ক লাগোয়া। ফলে যোগাযোগ দুরন্ত।” প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, পাশের মাটিগাড়া নকশালবাড়ি এলাকার একটি জায়গাও দেখা হয়েছে। সেখানকার বিধায়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। ওই এলাকাতেও এইমস গড়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “উত্তরবঙ্গে এইমস তো হবেই। তার জন্য প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।”
উত্তরবঙ্গের এক বিজেপি নেতা বলেন, “আমরা ভোটের প্রচারে কথা দিয়েছিলাম এইমস গড়ার। সেই কথা রাখতে উদ্যোগী রাজ্য-কেন্দ্র। এটাই উত্তরবঙ্গবাসীর কাছে সবচেয়ে আনন্দের খবর। ২০০৮ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির উদ্যোগে রায়গঞ্জের পানিশালা এলাকায় এইমস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানকার পানিশালা এলাকার প্রায় ৯০ জন স্বেচ্ছায় জমি দিতে চান। কিন্তু শেষমেশ জমিজটে তা গড়ে তোলা যায়নি। অভিযোগ ওঠে, তৎকালীন তৃণমূল সরকার রায়গঞ্জে ওই প্রকল্প নিয়ে কোনও আগ্রহ দেখায়নি। শেষ পর্যন্ত কল্যাণীতে তা গড়ে ওঠে। সেখানে পূর্ণ পরিষেবা চালুও হয়ে গিয়েছে। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা সংসদে প্রশ্ন করেন, উত্তরবঙ্গে এইমস গড়ার কোনও প্রস্তাব রাজ্যের তরফে অর্থাৎ তৎকালীন তৃণমূল সরকারের পক্ষ থেকে রাখা হয়েছে কি না। উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ওরকম কোনও প্রস্তাব পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে আসেনি। এবার রাজ্যে পালাবদলের পরই ফের তৎপরতা শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিলিগুড়ি লাগোয়া এলাকাতেই গড়ে উঠবে সেই স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো। সাংসদ রাজু বিস্তার মন্তব্য, “তৃণমূল যে কাজ আটকে রেখেছিল, তা করে দেখাবে ডবল ইঞ্জিন সরকার।”