মেসি কাণ্ডে তিনি রীতিমতো বিপাকে। যে কোনও সময় গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় আপাতত অন্তরালে। সেই অন্তরালে থেকেই বোমা ফাটালেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবিতে HDFC ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় চিঠি লিখলেন অরূপ। তার দাবি, দলে এখন চূড়ান্ত ডামাডোল চলছে। এই পরিস্থিতিতে দলের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বিবাদ চলছে। ফলে কে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই আপাতত দলের তহবিলের অপব্যবহার রুখতে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হোক।
HDFC ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় লেখা চিঠিতে অরূপ নিজেকে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘দলের মধ্যে ব্যাপক গন্ডগোল চলছে। সাংসদদের অনেকে দল ছেড়ে দিয়েছেন। আবার বিধায়কদের মধ্যে অনেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। ফলে দলের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে স্পষ্ট নয়। তাই এই অবস্থায় দলের অ্যাকাউন্টকে সুরক্ষিত রাখতে, সমস্ত লেনদেন বন্ধ রাখা হোক। না হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।’ অরূপের সাফ কথা, যতক্ষণ না দলের কর্তৃত্ব সংক্রান্ত সমস্যার নিষ্পত্তি হচ্ছে ততক্ষণ যেন অ্যাকাউন্টে কোনও লেনদেন না হয়। এমনকী দলীয় দপ্তরে তাঁর সই করা যে চেকগুলি রয়েছে সেগুলির অপব্যবহার হতে পারে বলেও আশঙ্কা করেছেন অরূপ।
আসলে অরূপ তৃণমূলের পুরনো কমিটিতে দীর্ঘদিন কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। যদিও দলের বিপর্যয়ের পর সেভাবে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি তাঁকে। কালীঘাটে নেত্রীর ডাকা একটি বৈঠকে তিনি পরে হাজির হন বটে, আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এমনকী মেসি কাণ্ডে মামলা দায়ের হওয়ার পর একপ্রকার অন্তরালে চলে গিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়া এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রী। একপ্রকার বাধ্য হয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের পর নতুন যে কমিটি গড়েছেন, সেই কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ পদে অরূপের বদলে এনেছেন শুভাশিস চক্রবর্তীকে। ফলে অরূপ আদৌ তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে নিজেকে দাবি করতে পারেন কিনা, সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও দলের তরফে বিবৃতি দিয়ে শুভাশিসকে কোষাধ্যক্ষ ঘোষণা করা হলেও ব্যাঙ্কের সাইনিং অথোরিটি বদলানো হয়েছে কিনা স্পষ্ট নয়। সব মিলিয়ে বিষয়টা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ফলে ব্যাঙ্ক কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই দেখার।
কিন্তু এসবের মধ্যে প্রশ্ন হল, আচমকা অরূপের এই চিঠি লেখার দরকারটা কী? এই মুহূর্তে দলের সংসদীয় এবং পরিষদীয় দলে ভাঙন ধরলেও দলের সংগঠনের রাশ নিজের হাতে রাখতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একে একে বিদ্রোহীদের সরিয়ে নিজের মতো করে দলকে সাজানোর চেষ্টা করছেন নেত্রী। দলের তহবিলের রাশও এতদিন কালীঘাটের হাতেই ছিল। অন্তত বিরোধী শিবিরের কেউ সরকারিভাবে তহবিলের উপর নিজেদের দাবি জানাননি। এই পরিস্থিতিতে অন্তরালে থেকে অরুপের পত্রবোমা বেশ ভালোমতো ধাক্কা দেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি মামলার ভারে জর্জরিত অরূপও ‘দিদি’র বিশ্বাস ভেঙে বিদ্রোহী দলে নাম লেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন?