অবশেষে দেখা মিলল অরূপের, গরহাজিরার হ্যাটট্রিকের পর থানায় প্রাক্তন মন্ত্রী
প্রতিদিন | ১৮ জুন ২০২৬
মেসি কাণ্ডে অবশেষে হাজিরা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের। ইতিমধ্যে তিনবার হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। তৈরি হচ্ছিল গ্রেপ্তারির আশঙ্কা! এই পরিস্থিতিতে অবশেষে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা অরূপ বিশ্বাসের। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পৌঁছন। তবে এদিন যে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী হাজিরা দিতে পারেন, সেই ইঙ্গিত বুধবার রাতেই শতদ্রু দত্ত দিতেছিলেন তাঁর সমাজমাধ্যমে। সেই মতো সকাল থেকেই থানার সামনে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তারই মাঝে গোপন আস্তানা থেকে বেরিয়ে তদন্তের মুখোমুখি হলেন অরূপ বিশ্বাস।
গত ডিসেম্বর থেকে মেসি কাণ্ডে উত্তাল বাংলা। রাজ্যে পালাবদলের পরেই তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করেন মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। অভিযোগ জানান থানায়। যেখানে শতদ্রু দাবি করেন, মেসি সফরের জন্য ৭০ হাজার টিকিট তৈরি করা হয়েছিল। তার মধ্যে গা জোয়ারি করে ২২ হাজার টিকিট অরূপ নিজেই নিয়েছিলেন। আর তা অন্যত্র বিক্রিও করা হয়েছিল। এমনকী মেসির নিরাপত্তা প্রোটোকলও প্রাক্তন মন্ত্রী মানতে চাননি বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই অরূপ বিশ্বাসকে নোটিস পাঠায় পুলিশ। একবার নয়, তিনবার নোটিস দেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু বারবার হাজিরা এড়িয়ে যান তৃণমূল নেতা।
যদিও এই মামলায় ইতিমধ্যে রক্ষাকবচ পেয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। আগামী ১৭ অগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ পুলিশ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে হাই কোর্ট। তবে তদন্তে সবরকমভাবে অরূপ বিশ্বাসকে সহযোগিতা করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। এরপরেই এদিনের হাজিরা।
এদিকে বুধবারই কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চিঠি দিয়েছে মেসির নিজস্ব ম্যানেজমেন্ট টিম। চিঠিতে বলা হয়েছে, স্টেডিয়ামে মেসির উপস্থিতির সময় আগে থেকেই একটি নিয়ম ছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের ভেতরে কোনও ভিআইপি বা বিশেষ অতিথি থাকতে পারবেন না। কেবল তিনজন ক্যামেরা অপারেটরের থাকার অনুমতি ছিল। অভিযোগ, সেই নিয়ম ভেঙে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মাঠে ঢুকে পড়েন। তিনি এমন কিছু কাজ করেন, যা নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ ছিল না। অভিযোগ, ছবি তোলার সময় তিনি বারবার মেসির খুব কাছে যাওয়ার এবং তাঁর সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় শারীরিক যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে মেসির কাঁধ ও কোমরে হাত রাখার ঘটনাও ছিল। কেবল তাই নয়, মাঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও মেসির টিম তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।