• সমুদ্রগুপ্তর স্বর্ণমুদ্রা, মিহিরকুলের লিপি দেখা যাবে জাদুঘরে
    এই সময় | ১৮ জুন ২০২৬
  • এই সময়: স্কুলের ইতিহাস বইয়ের দৌলতে সোনার ওই কয়েনটা প্রায় সবারই দেখা। বীণা বাজাচ্ছেন সম্রাট সমুদ্রগুপ্ত। কলকাতার ভারতীয় জাদুঘরে বুধবার থেকে শুরু ‘মা লিপি’ প্রদর্শনীতে উঁকি দিলে বিখ্যাত ওই স্বর্ণমুদ্রা চাক্ষুষ করার সুযোগ মিলবে।

    দেখার সুযোগ মিলবে পূর্ব ভারতের প্রাচীনতম শিলালিপি হিসেবে পরিচিত মৌর্য যুগের মহাস্থানগড় ফলক-লিপি, সমুদ্রগুপ্তের এরান শিলালিপি, কলচুরি রাজা বৈশ্রবণের কৌশাম শিলালিপি, গুপ্তসম্রাট প্রথম কুমারগুপ্তর তাম্রশাসন এবং হুন রাজা মিহিরকুলের শিলালিপির মতো বিরল প্রত্নসামগ্রী।

    কলকাতার ভারতীয় জাদুঘরের বিপুল প্রত্নসম্ভার দেখে প্রতিদিনই মুগ্ধ হন বহু মানুষ। কিন্তু তাঁদের অনেকেই জানেন না, এই জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্যে যত সামগ্রী রাখা থাকে, তার চেয়ে অনেক বেশি সম্পদ রাখা জাদুঘরের স্ট্রংরুমে। কখনও–সখনও সেই সব সামগ্রীর নির্দিষ্ট কয়েকটি সামনে এনে আলাদা করে দেখানো হয়। বুধবার থেকে কয়েক দিনের জন্য তেমনই এক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীরই নাম দেওয়া হয়েছে ‘মা লিপি’।

    এখানে ব্রাহ্মী লিপিতে ভারতের প্রাচীন শিলালিপি-ঐতিহ্য এবং সমকালীন শিল্পভাবনাকে একসূত্রে গাঁথা হয়েছে। ব্রাহ্মী হলো দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ লিপির ভিত্তি এবং বর্তমানে পাঠোদ্ধারকৃত প্রাচীনতম লিপি। এই বিশেষ প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করেন কলকাতায় নিযুক্ত জাপানের কনসাল জেনারেল ইশিকাওয়া ইয়োশিহিসা।

    প্রদর্শনীটির অন্যতম আকর্ষণ বিশিষ্ট শিল্পী নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের আধুনিক ক্যালিগ্রাফির এক অসাধারণ সংকলন। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ষোড়শ অধ্যায়ে বর্ণিত ছাব্বিশটি ‘দিব্য গুণাবলি’-কে তিনি অশোকীয় ব্রাহ্মী লিপির ঐতিহ্যে রূপায়িত করেছেন।

    ভারতীয় জাদুঘরের অধিকর্তা সায়ন ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই প্রদর্শনী শুধু প্রাচীন প্রত্নবস্তু ও আধুনিক শিল্পকর্মের প্রদর্শনী নয়, এটি একই সঙ্গে অতীত ও বর্তমানের মধ্যে এক সৃজনশীল কথোপকথন। প্রত্নতত্ত্ব ও সমকালীন শিল্পের এই বিরল ও অনন্য সমন্বয় দেখার জন্যে ভারতীয় জাদুঘর উৎসাহীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।’

  • Link to this news (এই সময়)