রাজ্যপাল আরএন রবির ভাষণ দিয়ে বিধানসভায় শুরু হলো বাজেট ভাষণ। আগামী সোমবার বাজেট পেশ করবেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। ভাষণে রাজ্যপাল জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ের বাজেট অধিবেশন চলবে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত। এ বার সরাসরি সম্প্রচারিতও হবে বাজেট অধিবেশন।
সূচনা ভাষণে দুর্নীতি, তোলাবাজি, নারী নির্যাতন-সহ একাধিক বিষয় ছুঁয়ে গিয়েছেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, ‘নতুন রাজ্য সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। দুর্নীতি, তোলাবাজি বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর এই সরকার। নারী নির্যাতনের ঘটনাতেও জ়িরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার তোলাবাজ-গুন্ডাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ অঙ্গীকার নিয়েছে।’ রাজ্যপালের সংযোজন, ‘বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ভয়-সন্ত্রাসের পরিবেশ ছিল রাজ্যে। নতুন সরকারের আমলে তা দূর হয়েছে। আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে রাজ্যে।’
রাজ্যে পালাবদলের এক মাসের মধ্যেই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দুর সরকার। ভাষণে তা-ও উল্লেখ করেন রাজ্যপাল। বলেন, ‘ক্ষমতায় এসেই নতুন সরকার বিএসএফ-কে জমি দিয়েছে খোলা সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য। অনুপ্রবেশ বড় সমস্যা ছিল। এর জেরে আগের সরকারের আমলে জনবিন্যাসও বদলে গিয়েছে। নতুন সরকার এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে রাজ্য থেকে তাড়ানোর পদক্ষেপ করা হচ্ছে। সরকারি জমি জবরদখলমুক্ত করা হচ্ছে। বালি পাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ করছে নতুন সরকার। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দূর করতেও বদ্ধপরিকর তারা। থ্রেট কালচার বরদাস্ত করা হবে না।’
বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ আটকে ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে সেই প্রসঙ্গও ছুঁয়ে গিয়েছেন। বলেছেন, ‘চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ ১৮ মাস আটকে রেখেছিল আগের সরকার। নতুন সরকার তা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। ৩৬টি রেল প্রকল্পে জমি দিয়েছেও রাজ্য সরকার। রেল ও মেট্রোর সমস্ত আটকে থাকা প্রকল্প শেষ করতে উদ্যোগী এই সরকার।’ শিল্প নিয়েও বার্তা দিয়েছেন রাজ্যপাল। বলেছেন, ‘দীর্ঘ সময় অবহেলিত থাকার পরে অবশেষে শিল্প গুরুত্ব পাচ্ছে রাজ্যে। নতুন শিল্প আনতে উদ্যোগী এই সরকার।’
এ ছাড়াও রাজ্যপাল জানান, নতুন সরকার রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করবে। স্কুলে ভালো মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করা হবে। নারী সশক্তিকরণেও উদ্যোগী হবে নতুন সরকার। রাজ্যপাল বলেন, ‘সার্ভাইক্যাল ক্যানসার নির্মূলে বিনামূল্যে টিকাকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। জনঔষধি যোজনার আওতায় ৫০-৮০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ পাবেন রাজ্যের মানুষ।’