আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক-পড়ুয়া তরুণীকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় যে পুনর্তদন্ত শুরু হয়েছে, তার অঙ্গ হিসেবে বুধবার পানিহাটির শ্মশান ঘাটে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। ঘটনাচক্রে, ঠিক তার পরের দিনই, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দিলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। সিবিআই সূত্রে খবর, তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে।
নির্যাতিতার মা-বাবা প্রথম থেকেই দাবি করে আসছেন, পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও তাঁদের মেয়ের দেহ তড়িঘড়ি দাহ করা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগের তির যাঁদের দিকে ছিল, সেই তালিকায় নির্মলও রয়েছেন। দাবি, দেহ দাহের সময়ে তিনিও ছিলেন শ্মশান ঘাটে। বৃহস্পতিবার পানিহাটির শ্মশানে (যেখানে নির্যাতিতার দেহ দাহ করা হয়েছিল) গিয়ে সেখানকার এক কর্মীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন তদন্তকারীরা। সিবিআই সূত্রে খবর, শ্মশানের সেই কর্মী তদন্তকারীদের যে বয়ান দিয়েছেন, নির্মলের বয়ানের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে।
তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়ার পরে শ্মশানের ইনচার্জ ভোলানাথ পাত্র বলেছিলেন, ‘নির্যাতিতার দেহ এসেছিল রাত ১১টায়। সঙ্গে তাঁর মা-বাবাও ছিলেন। তাঁদের একজনও আপত্তি করলে নির্যাতিতার দেহ দাহ করা হতো না। তাই নির্যাতিতার দেহ আগে দাহ করা হয়েছিল বলে আমি সিবিআইকে জানিয়েছি।’ যদিও নির্যাতিতার বাবার পাল্টা বক্তব্য, ‘শ্মশানের ইন-চার্জ কার আন্ডারে চাকরি করেন। নিজের চাকরি বাঁচাতে এখন এ সব বলছেন। আমরা মেয়ের দেহ নিয়ে শ্মশানে যাওয়ার আগেই সব পরিকল্পনা হয়ে গিয়েছিল। একটি দেহ পোড়ানোর সময়ে এত পুলিশ কেন ছিল? দুটো মৃতদেহ রেখে তড়িঘড়িই আমার মেয়ের দেহ পোড়ানো হয়েছিল।’
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার কক্ষ থেকে চিকিৎসক-পড়ুয়া ওই তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। প্রথমে কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় সিবিআই-কে। ওই ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামে মূল অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাবাসের সাজা দেয় নিম্ন আদালত। সম্প্রতি নির্যাতিতার পরিবারের তরফে সিবিআইয়ের তদন্তে একাধিক গাফিলতির বিষয় তুলে ধরে ঘটনার পুনর্তদন্তের আবেদন করা হয়েছিল হাইকোর্টে। যার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সিবিআই-কে সিট গঠন করে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেয়।