• কাঁঠাল খেতে গিয়ে কুয়োয় পড়ে হাতির ছানার মর্মান্তিক মৃত্যু, পাশে দাঁড়িয়ে একটানা কেঁদে গেল মা-হাতি
    News18 বাংলা | ১৮ জুন ২০২৬
  • ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রামেরন চাঁদাবিলার বাছুরখোঁশাড়ে কুয়োর মধ্যে পড়ে গেল হস্তিশাবক। বাঁচানো গেল না প্রাণে। বুধবার রাতে হাতির দল এই এলাকা দিয়ে পার হচ্ছিল। সকাল থেকে হাতির চিৎকারে আতঙ্ক ছড়ায় গোটা এলাকায়। এরপরেই ঘটনার খবর দেওয়া হয় বনদফতরে। তড়িঘড়ি তাদের উদ্ধার করে বনদফতর।

    কাঁঠাল খেতে এসে কুয়োয় বিপর্যয়! ব্যর্থ হল মা হাতির আপ্রাণ চেষ্টা।  চাঁদাবিলা রেঞ্জে উদ্ধার হল হাতির ছানার নিথর দেহ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাত আনুমানিক ৩টে নাগাদ ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের চাঁদাবিলা রেঞ্জর তপোবন জঙ্গলের দোরখুলির দিক থেকে ২৫টি হাতির একটি দল বাছুরখোয়ার এলাকায় চলে আসে। সেখানে একটি ইটের ভাটার কাছে থাকা কুয়োর পাড়েই ছিল একটি কাঁঠাল গাছ। সেই গাছের কাঁঠাল খেতে গিয়েই আচমকা দলের একটি ছোট হাতির বাচ্চা ভারসাম্য হারিয়ে গভীর কুয়োর ভিতরে পড়ে যায়।

    সকাল হতেই গ্রামবাসীরা দেখেন হাতির দলটি ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করছে। পরে দিনের আলো ফুটলে হাতির মূল দলটি সাঁকরাইলের দিকে নদী পেরিয়ে চলে গেলেও, সন্তানকে ফেলে যেতে পারেনি মা হাতিটি। সে কুয়োর পাড়েই ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে নিজের শুঁড় ভিতরে নামিয়ে বাচ্চাটিকে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু গভীর কুয়ো থেকে সন্তানকে টেনে তোলা মায়ের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

    বন দফতরের আধিকারিকেরা আশা করেছিলেন, ছানাটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তার দলের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ কুয়োর সংকীর্ণ ও দমবন্ধ করা পরিবেশে আটকে থাকায় উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ছানাটি। জেসিবি দিয়ে কুয়োর একপাশ কেটে যখন তাকে বের করা হয়, তখন আর তার শরীরে প্রাণ ছিল না। বন দফতরের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘক্ষণ কুয়োর ভেতর আটকে থেকে অতিরিক্ত আতঙ্ক এবং শ্বাসকষ্টের কারণেই মৃত্যু হয়েছে ছানাটির। এই ঘটনার পর মৃতদেহটির ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)