সুস্থ হতে গিয়ে পেলেন বেধড়ক বেত্রাঘাত, ওঝার কাছে গিয়ে চরম সর্বনাশ! স্ত্রীর সামনেই করুণ পরিণতি
News18 বাংলা | ১৮ জুন ২০২৬
অসুস্থ স্বামীকে বাঁচাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ওঝার কাছে। তারপর যা হল, তা দেখে শিউরে উঠছে রাজগঞ্জ। অশরীরী তাড়াতে গুরুর কাছে গিয়ে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির। রাজগঞ্জে ওঝার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার ২ ওঝা। স্ত্রীর সামনেই স্বামীকে নির্মম অত্যাচার। অসুস্থ স্বামীকে সুস্থ করার আশায় ওঝার দ্বারস্থ হয়েছিল পরিবার। কিন্তু সেই ঝাড়ফুঁকই কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ, এমনই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে।
মৃতের নাম ক্ষিতেন রায় (৫৫)। তাঁর বাড়ি রাজগঞ্জ ব্লকের পানিকৌড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ফাটাপুকুর সংলগ্ন ডাঙ্গাপাড়া এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, ‘অশরীরীর প্রভাব’ কাটানোর নামে তাঁকে নির্মমভাবে বেত দিয়ে মারধর করেন এক ওঝা। আর সেই ঘটনার একদিনের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁকে রাজগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, এমনকি শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা করানো হয়।
কিন্তু একাধিক পরীক্ষার পরও নির্দিষ্ট রোগ ধরা না পড়ায় তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। এরপরই শুরু হয় ঝাড়ফুঁকের পালা। প্রথমে মরগাডাঙ্গির এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখান থেকে ‘গুরু’র পরামর্শে সুখানির সাহেবপাড়ার এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, সেখানেই ঘটে নির্মম অত্যাচার। স্ত্রীর সামনেই ক্ষিতেন রায়কে বেত দিয়ে একের পর এক আঘাত করা হয়। পরিবারের দাবি, মারধরের পর থেকেই দ্রুত অবনতি হতে থাকে তাঁর শারীরিক অবস্থার।
পরদিনই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। রাজগঞ্জ থানায় দুই কবিরাজের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ দ্রুত তদন্তে নেমে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে তোলা হয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলছে অন্ধবিশ্বাসের বলি আর কত প্রাণ। সাইন্স এন্ড নেচার ক্লাবের সদস্য তারা জানান মানুষ কখনো শরীর খারাপ হলে ওঝা বা বৈদির কাছে যাওয়া উচিত না। সঠিক চিকিৎসা রয়েছে সেখানেই যাওয়া উচিত।