• ফেসবুকের প্রেম পেল পূর্ণতা! নদিয়ায় ভালবাসার জয়গাথা,প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে ছাদনাতলায় কৌশিক-স্নেহা
    News18 বাংলা | ১৮ জুন ২০২৬
  • : ফেসবুকে পরিচয়, তারপর বন্ধুত্ব, প্রেম এবং শেষ পর্যন্ত বিবাহ। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে গড়ে ওঠা এক ভালবাসার সম্পর্ক পূর্ণতা পেল নদিয়ার দুই বিশেষভাবে সক্ষম যুগলের জীবনে। এই ব্যতিক্রমী প্রেম ও বিবাহের সাক্ষী থাকল নদিয়ার মাজদিয়ার পূর্ণগঞ্জ এলাকা।

    পাত্র কৌশিক মিত্র মাজদিয়ার পূর্ণগঞ্জের বাসিন্দা। জন্মগতভাবে বিশেষভাবে সক্ষম হলেও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। মাজদিয়া কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পাশাপাশি আইটিআই-তে ফিটার ট্রেডে ডিপ্লোমাও করেছেন। পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ ফুটবলার। বিভিন্ন সময়ে খেলার সূত্রে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় বগুলার বাসিন্দা স্নেহা পোদ্দারের। স্নেহাও বিশেষভাবে সক্ষম এবং বর্তমানে স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করছেন।

    দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁদের যোগাযোগ চলছিল। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক প্রেমের রূপ নেয়। দুই পরিবারের অজান্তে একসময় বিয়ের চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। পরে বিষয়টি পরিবারগুলির সামনে এলে উভয় পক্ষই তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেয়। অবশেষে মাজদিয়ায় কৌশিকদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে পুরোহিত ডেকে শাস্ত্রমতে সম্পন্ন হয় বিয়ের অনুষ্ঠান।

    কৌশিকের পরিবারে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী বাবা, গৃহবধূ মা এবং রেলে কর্মরত বড় ভাই। অন্যদিকে স্নেহার বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মা গৃহবধূ। দুই পরিবারই নবদম্পতির নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। তবে বিয়ের আনন্দের মাঝেও একটি বড় চিন্তা রয়ে গেছে। শিক্ষিত ও দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও কৌশিক এখনও বেকার। চাকরির আশায় বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেও এখনও স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাননি। কৌশিকের বাবা আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমরা আজ আছি বলেই ছেলে-মেয়ের কোনওভাবে দিন চলছে। কিন্তু ভবিষ্যতে আমরা না থাকলে ওদের কী হবে, সেই চিন্তাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।” স্থানীয় বাসিন্দারাও নবদম্পতিকে আশীর্বাদ জানিয়ে তাঁদের সুখী ও স্বনির্ভর জীবনের কামনা করেছেন। ভালবাসার এই জয় গাথা আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)