• সাইবার ক্রাইম থেকে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি, টেলিগ্রামে চলে বেআইনি কাজ, হাইকোর্টে জানাল কেন্দ্র
    এই সময় | ১৮ জুন ২০২৬
  • ভারত সরকার এ বার আদালতে দাবি করেছে, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম শুধু অবৈধ কনটেন্ট ছড়ানোর ক্ষেত্রেই নয়, শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM), পর্নোগ্রাফি, সাইবার হামলা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

    এখানেই শেষ নয়, কেন্দ্রের তরফে আদালতে টেলিগ্রামের কিছু বিশেষ ফিচারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের দাবি, টেলিগ্রামের কিছু ফিচার— বিশেষ করে বৃহৎ গ্রুপ, চ্যানেলভিত্তিক সম্প্রচার এবং দ্রুত অ্যাকাউন্ট পরিবর্তনের সুযোগ— অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। সরকারের দাবি, এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই চাইল্ড পর্নোগ্রাফির মতো কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। এমনকী জঙ্গি নেটওয়ার্কও গড়ে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

    এই মামলায় সরকারের বক্তব্য ছিল, তদন্তকারী সংস্থাগুলির জন্য বহু ক্ষেত্রে উৎস চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায় এবং অপরাধীদের খুঁজে বের করতে সময় লাগে। তাই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা, তথ্য সংরক্ষণ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা— এই বিষয়গুলিকে আরও কঠোরভাবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতে জানায় সরকার।

    কেন্দ্রের আনা অভিযোগগুলির মধ্যে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ যথেষ্ট উদ্বেগের। ভারতে গত কয়েক বছরে শিশু নির্যাতনমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট (CSEAM/CSAM) মোকাবিলায় একাধিক অভিযান হয়েছে। সরকারি পর্যায়ে রিপোর্টিং ও দ্রুত অপসারণের জন্য আলাদা ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু তাতেই এই প্রবণতার শেষ এখনও হয়নি।

    তবে টেলিগ্রাম অতীতেও জানিয়েছে যে তারা শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্ট ও অন্যান্য বেআইনি উপাদানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং স্বয়ংক্রিয় ভাবে আপত্তিজনক কনটেন্ট শনাক্ত করে ও রিপোর্টের ভিত্তিতে অপসারণ করে। কোম্পানির বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের রিপোর্ট এবং অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেও নিষিদ্ধ কনটেন্ট সরানো হয়।

    এ দিকে আন্তর্জাতিক স্তরেও টেলিগ্রাম নজরদারির মুখে পড়েছে। আমেরিকার Ofcom চলতি বছরে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট রোধে প্ল্যাটফর্মটির ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

    এ দিকে ডাক্তারির প্রবেশিকা (NEET UG)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পরে মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম ব্যবহার সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার। ২২ জুন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় ভারতে এই অ্যাপে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত সীমিত ব্যবহার।

    তবে এই সিদ্ধান্তে কর্পোরেট চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন টেলিগ্রাম-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও পাভেল দূরভ। বুধবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দুরভের দাবি, ভারতে টেলিগ্রাম-এর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এমনকী দেশের বাইরেও গ্রাহক পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটানোর সঙ্গে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গোষ্ঠীর ভূমিকা থাকতে পারে। যদিও টেলিকম শিল্পের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)