এই সময়: এক জন অ্যাপ বাইক চালকের সঙ্গে অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলা এবং দুর্ব্যবহার করার অভিযোগে চাকরি খোয়ালেন এক তরুণী। তিনি একটি বেসরকারি নির্মাণ সংস্থায় চাকরি করতেন। তাঁর ‘দুর্ব্যবহারের’ শিকার চালকই দু’জনের মধ্যে হওয়া কথোপকথন মোবাইল ফোনের ভিডিয়ো ক্যামেরায় রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করেছেন। যা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাল হয়।
ভিডিয়ো ক্লিপটি (যার সত্যতা ‘এই সময়’ যাচাই করেনি) দেখে বেসরকারি নির্মাণ সংস্থা কর্তৃপক্ষ ওই তরুণীকে বরখাস্ত করেছেন বলে সূত্রের খবর। ভিডিয়োটি সামাজিক মাধ্যমে কার্যত ঝড় তুলেছে। অ্যাপ বাইকের চালকের সঙ্গে ওই তরুণীর অমন আচরণ নিয়ে নেটিজ়েনদের অনেকেই সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। এমনকী, নিউ টাউনে ওই তরুণীর বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভও দেখান একদল লোক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে যেতে হয় পুলিশকে। তবে নিয়মিত অ্যাপ বাইকের পরিষেবা নিতে হয়, এমন লোকজনের একটা বড় অংশের বক্তব্য, ওই তরুণী যেমন অন্যায় করেছেন, তেমনই এক শ্রেণির অ্যাপ বাইক চালকদের নিয়ে তাঁদের রোজকার অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়।
সূত্রের খবর, দিন কয়েক আগে অফিসে যাবেন বলে অ্যাপ বাইক বুক করেছিলেন ওই তরুণী। তবে একটি নয়, তিনি একসঙ্গে দু’টি অ্যাপ বাইক বুক করেছিলেন। লোকেশনে দু’টি বাইকই পৌঁছয়। কিন্তু প্রথম বাইকটি ক্যানসেল করে দ্বিতীয় বাইকটি ওই তরুণী বেছে নেন। তখন প্রথম বাইকের চালক প্রশ্ন করেন, ‘আপনি একসঙ্গে কেন ডাবল বুকিং করলেন? আমার তো ক্ষতি হয়ে গেল।’ আর ওই কথা শুনেই তরুণী রাগে ফেটে পড়েন। প্রথমে চালককে ‘তুই–তোকারি’ করতে শুরু করেন এবং তার পরে তিনি অশ্রাব্য গালিগালাজ দেন। শুধু তা–ই নয়, কোনও রকম প্ররোচনা ছাড়াই ওই তরুণী অ্যাপ বাইক চালকের মা–কে উদ্দেশ করে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় ওই তরুণীর এক আত্মীয়াকেও দেখা যায় অ্যাপ বাইক চালকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করতে।
তরুণী যেখানে কর্মরত ছিলেন, সেই নির্মাণ সংস্থা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তরুণীর ওই আচরণ অফিস টাইমে এবং অফিস চত্বরে হয়নি ঠিকই, তবে তাঁর ওই আচরণ সংস্থার বদনাম করেছে। ওই সংস্থা মনে করেছে, এ ধরনের আচরণ পারস্পরিক সম্মানবোধ ও সৌভ্রাতৃত্বের বিরুদ্ধে এবং সংস্থার কোড অফ কনডাক্ট–এরও পরিপন্থী। এই কারণ দেখিয়েই ওই তরুণীকে সংস্থাটি বরখাস্ত করেছে।
যদিও তার পরে ভাইরাল হয়েছে আরও একটি ভিডিয়ো (যার সত্যতা যাচাই করেনি ‘এই সময়’), যেখানে ওই অ্যাপ বাইক চালক বলছেন, ‘ওই দিদিকে সবাই যে ভাবে বলছে, তাতে আমার খারাপ লাগছে। আমার সঙ্গে ওই দিদির সব কিছু মিটে গিয়েছে। ভুলটা যেমন ওই দিদির ছিল, তেমন আমারও ছিল। আমার বুকিং ১০ মিনিট আগে যে ক্যানসেল্ড হয়েছে, সেটা আমি খেয়াল করিনি।’ ওই ঘটনায় পুলিশের কাছে কোনও পক্ষই অভিযোগ জানাননি। তবে বিধাননগর কমিশনারেটের এক পুলিশকর্তা বলছেন, ‘ওই ঘটনার পরে ওই তরুণীর বাড়ির সামনে যে ভাবে বহু লোক জড়ো হয়েছিলেন, তাতে বিপজ্জনক কিছু হতে পারত। খবর পেয়ে পুলিশ নিজে থেকেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিল।’
তবে অ্যাপ বাইকের নিত্যযাত্রীদের একাংশের বক্তব্য, নানা অছিলায় যে ভাবে এক শ্রেণির চালক রাইডের পর রাইড ক্যানসেল করেন, অভব্যতা করেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা দাবি করেন, তাতে কম যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় না— বিশেষ করে অফিস টাইমে বা অন্য কারণে তাড়াহুড়োর সময়ে।