২১ জুন সকাল সাড়ে ৬টায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে সরকারি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে রাজ্য সরকার। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে বামপন্থীদের সমর্থিত কো-অর্ডিনেশন কমিটি। বৃহস্পতিবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি ছিল। বিচারপতি সিনহার নির্দেশ, রাজ্যের মুখ্যসচিবের এমন বিজ্ঞপ্তি জারির আদৌ এক্তিয়ার আছে কি না, তা হলফনামা দিয়ে শুক্রবার জানাতে হবে রাজ্যকে।
মামলাকারী সরকারি কর্মীদের সংগঠনের তরফে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি সওয়ালে উল্লেখ করেন, যোগ দিবসের মতো সারা বছর আর কী কী দিবস রয়েছে। তাঁকে থামিয়ে বিচারপতির সংযোজন, ‘আপনি ভ্যালেনটাইন’স ডে-র কথা বললেন না। ওটা বাদ দিলেন কেন?’
বিকাশরঞ্জন আদালতে জানান, ‘যোগের জন্য রাজ্যের বিষ্টু ঘোষের নাম আমরা জানি। তাঁকে জাপানেও আমন্ত্রণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’ বিচারপতি বলেন, ‘এটা বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটা তো ভালো।’ রাজ্যের তরফে সওয়াল করা হয়, ‘কোনও সংগঠন কর্মসূচিতে যুক্ত না হতে চাইলে, তারা আলাদা করে মামলা করুক। গত বছর অন্ধ্রপ্রদেশে ৩ কোটি মানুষের জমায়েত হয়েছিল। এ বার আমরা রেকর্ড করতে চাই।’ যা শুনে বিচারপতি বলেন, ‘এমন অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা কাম্য নয়।’ শুক্রবার মামলার পরবর্তী শুনানি।
এ বার যোগ দিবসে কলকাতায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রেড রোডে মেগা ইভেন্ট রয়েছে সে দিন। যোগ দিবসে সরকারি কর্মীদের যোগব্যায়ামে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে রাজ্য সরকার। ২১ জুন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টা ৪৫ পর্যন্ত রাজ্যের সব সরকারি দপ্তরের কর্মীদের যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন, তাতে জানানো হয়েছে, রাজ্যের সব সরকারি অফিসের কর্মীকে নির্দিষ্ট ওই সময়ের মধ্যে তাঁদের দপ্তরে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে। রেড রোডে যে অনুষ্ঠান হবে, তাঁরা চাইলে সেখানেও থাকতে পারেন।
নির্দেশিকায় লেখা রয়েছে, সরকারি কর্মীরা নিজ নিজ অফিস, নিজেদের আবাসন, রেড রোড অথবা মিলন মেলায় অংশ নিতে পারবেন (প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে)। নির্দেশিকা অনুসারে রাজ্য সরকারের সমস্ত স্তরের স্থায়ী, অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক, দৈনিক মজুরিভিত্তিক, সাম্মানিকের বিনিময়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁদেরও এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
যোগ দিবসে সরকারি কর্মচারীদের যোগদান বাধ্যতামূলক কেন? প্রশ্ন তুলে বুধবার হাইকোর্টে মামলা করেছে কো-অর্ডিনেশন কমিটি। তাদের বক্তব্য ছিল, সরকারি কর্মচারীদের যোগদান স্বেচ্ছায় করা হোক। সেই মামলার শুনানি হয় এ দিন।