আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে শুরু হওয়া অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার যেন এক নতুন তথ্য সামনে আনলেন বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'তৃণমূল দলের মধ্যে যে ছুঁচোর কীর্তন চলছে তার পেছনে আসল কারণ লুঠের টাকার বখরা কে পাবে।'
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস নেতা বলেন, 'তৃণমূল কংগ্রেস একটি আঞ্চলিক দল। কিন্তু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দৌলতে সেই দলে টাকার কোনও অভাব কোনও দিন ছিল না। আমরা সকলেই জানি বিজেপির হাজার হাজার কোটি টাকা আছে। সবাই জানে কর্পোরেট জগতকে তাদেরকে (পড়ুন বিজেপিকে) টাকা দিতে হয়। কিন্তু আঞ্চলিক দলের এত টাকা কোথা থেকে এলো তা তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাপার।'
তিনি দাবি করেন, 'সেই টাকার মোহে তৃণমূল নেতাদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। টাকার মালিক কে হবে , লুঠের টাকা ,ধান্দার টাকার বখরা কে পাবে সেই নিয়ে তাঁদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়েছে।' বৃহস্পতিবারই প্রকাশ্যে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়ে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় চিঠি দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। প্রসঙ্গত তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ইতিমধ্যে ৫৮ জন বিদ্রোহী হয়ে নতুন একটি 'ব্লক' তৈরি করেছেন, যদিও ঋতব্রত ব্যানার্জির দাবি, সেই সংখ্যা বেড়েছে অনেকটাই। এই অবস্থায় মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল নেতারা মনে করছেন দলের তহবিল বেহাত হয়ে যেতে পারে। তাই দলের সমস্যা না মেটা পর্যন্ত ব্যাঙ্কে থাকা টাকা যাতে অনুমোদনহীন কোনও ব্যক্তি তুলতে না পারেন সেই কারণেই অরূপ বিশ্বাস অ্যাকাউন্টে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে এবং সব রকম লেনদেন বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়ে এই চিঠি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের অধীর বলেন, 'রাজনৈতিক নৈতিকতা বলে একটি বিষয় আছে। এখন যাঁরা তৃণমূলের অন্দরে থেকেই নিজেদের বিদ্রোহী বলে ঘোষণা করছেন, তাঁরা কিন্তু মমতা ব্যানার্জির নাম ভাঙিয়েই তৃণমূলের প্রতীকে জিতে এসেছেন।'
অধীর চৌধুরীর পরামর্শ, 'তৃণমূল দলের মধ্যে থেকে বিদ্রোহ না করে দল ত্যাগ করে নিজেদের ক্ষমতায় জিতে একবার দেখান।'
পুরনো প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'বিগত দিনে তৃণমূল সরকার ঠিক একইভাবে কংগ্রেসের বিধায়কদের নিজের দলে ভাঙিয়ে নিয়েছিল। এখন ঠিক একইভাবে বিজেপি তৃণমূল দলকে ভাঙাচ্ছে। দুটোই অন্যায় এবং দু’ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক নীতিবোধের অধঃপতন ঘটছে।'
তাঁর মতে, 'যে কেউ ইচ্ছা থাকলে দল ত্যাগ করে অন্য দলে যেতেই পারেন। কিন্তু তাঁকে কোনও দল বা প্রতীক ছাড়া নিজের ক্ষমতায় জিতে দেখানো প্রয়োজন। তবেই তিনি প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হয়ে উঠবেন।'
প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এদিন আরও অভিযোগ করেন, 'বাংলায় এমন কোনও প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস লুট,দুর্নীতি ও ডাকাতি করেনি। মুর্শিদাবাদের সব পুরসভায় এই জিনিস রয়েছে। বহরমপুর পুরসভার এক নেতার এখানে টাকা রাখার সুযোগ ছিল না বলে কোটি কোটি টাকা দুবাইতে গিয়েছে। অথচ বিজেপি নেতারা কান্দি এবং বহরমপুর পুরসভার দুর্নীতি নিয়ে সম্পূর্ণ চুপ করে রয়েছে। এসব জায়গায় চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নামে তৃণমূল নেতারা রোজগার করেছেন। তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে শুধু ডিম ছুড়ে খবর করায় কোনও বাহাদুরি নেই।' অধীর চৌধুরী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সুরক্ষার বিষয়টি নিয়েও আজ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে সসম্মানে সুরক্ষা দেওয়া উচিত। তাঁর সুরক্ষা নিয়ে যেন কোনও টালবাহানা না হয়।' প্রসঙ্গত বুধবার গভীর রাতে তৃণমূল দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অনুমতি না নিয়েই তাঁর দীর্ঘদিনের পিএসও'দের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।