• প্রসূতি মৃত্যুকাণ্ডে ডা: আলাউদ্দিনের সাসপেনশন প্রত্যাহার, তদন্তের আর্জি সংগঠনগুলির
    আজ তক | ১৮ জুন ২০২৬
  • স্যালাইনের কারণে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় স্ত্রী রোগ বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ডা: মহম্মদ আলাউদ্দিনকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এবার সেই সাসপেশনশ প্রত্যাহার করল স্বাস্থ্য দফতর। 

    এই মর্মে একটা নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্যভবন। সেখানে জানান হয়েছে, সাসপেনশনের সময়কালে 
    তাঁকে ‘অন ডিউটি’ দেখানো হবে। তিনি স্বাভাবিকভাবে অবসরকালীন যা যা সুযোগ সুবিধা রয়েছে, সবই পাবেন। 

    বর্তমানে ডা: আলাউদ্দীন অবসরপ্রাপ্ত। সাসপেন্ড হওয়ায় তিনি অবসরকালীন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ। সাসপেনশন প্রত্যাহার হওয়ায় এবার তিনি অবসরকালীন সব সুযোগ এবং সুবিধা পাবেন বলেই জানা যাচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন পাঁচ প্রসূতি। সেই সময় অভিযোগ ওঠে, রিঙ্গার্স ল্যাকটেট স্যালাইন দেওয়ার পরেই অসুস্থ হয়েছিলেন ওই সব প্রসূতি। পরে এই ঘটনায় এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। সমালোচনার মুখে পড়ে তৃণমূল সরকার। সেই সময়ই ডা: আলাউদ্দীন সহ ১৩ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই নির্দেশই এবার প্রত্যাহার করল নতুন রাজ্য সরকার। 

    আর বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বেজায় খুশি চিকিৎসক সংগঠনগুলি। এমনকী আইএমএ-এর তরফেও এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান হয়। আইএমএ পশ্চিমবঙ্গ শাখার পক্ষ থেকে সম্পাদক ডা: শান্তনু সেন বলেন, 'পূর্বতন সরকারের আমলে বহু চিকিৎসক-বিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেগুলির বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে আমরা সরব হয়েছি। প্রকৃত সত্য জানতে চেয়েছি। নির্দোষ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অকারণে ব্যবস্থা গ্রহণ হলে তার প্রতিবাদ করেছি।' 

    পাশাপাশি তাঁর দাবি ডা: আলাউদ্দীনকে অন্যায়ভাবে সাসপেন্ড করে দিয়েছিল পূর্বতন সরকার। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন তাঁরা। তাই এই চিকিৎসকের উপর থেকে সাসপেনশন তুলে নেওয়ায় আইএমএ খুশি। 

    এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছে রাষ্ট্রবাদী চিকিৎসক সংগঠন এনএমও-ও। তাঁদের দক্ষিণবঙ্গ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা: অর্ণপ পাল বলেন, 'মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ডা: আলাউদ্দিনের সাসপেনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। একইসঙ্গে আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, দূষিত বা ভেজাল ওষুধ, স্যালাইন ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তি, সংস্থা ও স্বার্থান্বেষী চক্রগুলিকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত না করে চিকিৎসকদের বলির পাঁঠা বানানো উচিত নয়।'

    এই বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরস-এর সাধারণ সম্পাদক ডা: উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, '২০১৪-১৫ সালে এরকম প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ডা: উদয়ন মিত্র। তিনি আলিপুরদুয়ার হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্ট ছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে তাঁকে পরবর্তীকালে দূরে ট্রান্সফার করা হয়। ট্রান্সফারের পরে তিনি চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর আরও সাত থেকে আটটা জায়গাতে এরকম একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এই সব জায়গায় এরকম মৃত্যু ঘটেছে। ওষুধের মানগুলো সন্দেহের ঊর্ধ্বে ছিল না।'

    এমতাবস্থায় তাঁদের সংগঠন এই সাসপেনশন প্রত্যাহারের খুশি। পাশাপাশি তাঁরা চান, বাকি কেসগুলোরও যেন এরকম সমাধান হয়। ওষুধের মানগুলো নিয়ে যেগুলো প্রশ্ন উঠেছিল এবং সেই বিষয় নিয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক। 

     
  • Link to this news (আজ তক)