'বউ মারা গেলে আমিও শেষ', UP-তে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে আত্মঘাতী কলকাতার সেনা জওয়ান
আজ তক | ১৮ জুন ২০২৬
উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলায় এক মর্মান্তিক পারিবারিক ট্র্যাজেডির ঘটনা সামনে এসেছে। পারিবারিক অশান্তির জেরে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করার পর তাঁর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে কলকাতায় কর্মরত স্বামী, ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সুবেদার, আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও গোটা গ্রামজুড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিঘাপুর থানার অন্তর্গত দাদামৌ গ্রামের বাসিন্দা সুবেদার শৈলেন্দ্র কুমারের স্ত্রী সাধনা পাণ্ডে মঙ্গলবার রাতে নিজের বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে সাধনার ভাই অনুজ মিশ্র পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বোনকে খুন করা হয়েছে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তদন্ত শুরু করে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পৌঁছয় কলকাতায় কর্মরত শৈলেন্দ্র কুমারের কাছে। অভিযোগ, সেই খবর পাওয়ার পরই তিনি চরম সিদ্ধান্ত নেন এবং আত্মহত্যা করেন। স্বামী-স্ত্রীর পরপর মৃত্যুর ঘটনায় দুই পরিবারই গভীর শোকে ভেঙে পড়েছে।
মৃত সাধনার পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হলেও দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। তবে তাঁর ভাই অনুজ মিশ্রের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
এরই মধ্যে শৈলেন্দ্র কুমারের একটি অডিও বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে তিনি এক পরিচিত ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে বলেন, 'পাণ্ডে জি, আমার স্ত্রী যদি চলে যায়, তাহলে আমিও শেষ হয়ে যাব। আমার পরিবারের কারও কোনও দোষ নেই। আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।' অডিও বার্তায় তিনি তাঁর দুই সন্তান, আট বছরের সানভি এবং পাঁচ বছরের যথার্থের দেখভালের দায়িত্বও ওই ব্যক্তির উপর অর্পণ করার অনুরোধ জানান বলে দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, শৈলেন্দ্রই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। ফলে এই আকস্মিক ঘটনায় পরিবারগুলির পাশাপাশি গোটা গ্রাম স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে।
বিঘাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অরবিন্দ কুমার জানিয়েছেন, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে কলকাতায় শৈলেন্দ্র কুমারের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।