মমতার রক্ষী ফেরানোর আর্জি নিয়ে ৬ তৃণমূল বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৮ জুন ২০২৬
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের রদবদল নিয়ে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলেন ছয় বিধায়ক। ছিলেন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব, রহিম বক্সী ও রুকবানুর রহমান। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা কমানোর যে কথা বলা হচ্ছে তা ঠিক নয়। যে সকল পছন্দের ব্যক্তিদের কথা বলা হচ্ছে তা মিলবে না।
আজ বৃহস্পতিবারেই বিধানসভায় শুরু হয় অধিবেশন। রাজ্যপালের ভাষণের পরেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে চলে যান কুণালেরা। সেখানেই বৈঠক করেছিলেন তারা। যদিও সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, নেত্রী কোনো অনুরোধ করতে বলেননি বিধায়কদের। তারা নিজেরাই এই কথা বলেন। আসলে বুধবারেই মমতা নিরপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বদল হয়েছে। তিন নয়া নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছিলেন ডেরেক ও ব্রায়েন। তারপরেই এই বৈঠক করেন কুণাল, শোভনদেবরা।
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা কমানোর যে কথা বলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। জেড প্লাস নিরাপত্তাই তিনি পাবেন। একজনকেও কমানো হয়নি।’ আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা স্থায়ী নন। আমার পিএসও রাও স্থায়ী নন।’ এছাড়াও জানা গিয়েছে ওই বৈঠকে জেলায় তৃণমূল কর্মীদের উপরে হামলা ও হয়রানির ঘটনা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে শোভনদেব বলেন, ‘বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরু হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে আমাদের কয়েকটা প্রশ্ন ছিল। আমাদেদর বসার জায়গা কোনটা, আমরা ঘর পাবো কি না, বলার সুযোগ পাবো কি না এই নিয়ে প্রশ্ন করেছি। আমরা জনপ্রতিনিধি। আমাদের নিজেদের এলাকার মানুষদের কথা বলতে হবে।’ কুণাল বলেন, ‘কয়েকটা নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়কে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করেছেন সিিনিয়র মোস্ট বিধায়ক হিসেবে।’
দিন কয়েক আগে বেলেঘাটার প্রাক্তন মনেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার গ্রেফতারের পরের কুণাল বিষয়টি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলেছিলেন, নেতা কর্মীদের হয়রানি থামানো দরকার। তাঁর দাবি ছিল বহু জায়গায় তৃণমূলের নেতা কর্মীদের উপরে হেনস্থা হচ্ছে। সেই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন এভাবে বলা যায় না। ১৮ জুন অধিবেশন বসছে। ওইদিন রাজ্যপালের ভাষণের পরে মমুখোমুখি কথা হতে পারে। তারপরে বুধবার মমতার নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পরে কুণাল নিজে থেকেই আবার মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পুরোনো পিএসওদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক। পুলিশ যাই করুক মুখ্যমন্ত্রকী যেন বিষয়টি সৌজন্য দেখিয়ে বিবেচিত করেন।