যোগ দিবসে সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়, জোড়া মামলার শুনানিতে কী জানাল হাইকোর্ট?
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৮ জুন ২০২৬
আগামী ২১ জুন রেড রোডে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনে কোনও আইনি বাধা নেই। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানাল কলকাতা হাইকোর্ট। এর পাশাপাশি বিশ্ব যোগ দিবসে সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয় বলে হাইকোর্টে জানালেন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল। কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া দুটি পৃথক মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এ কথা জানানো হয়েছে।
আগামী ২১ জুন কলকাতার রেড রোডে যোগাভ্যাসে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই উপলক্ষে রেড রোডে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। সেই জন্য গত রবিবার, ১৪ জুন থেকে আগামী ২১ জুন, রবিবার পর্যন্ত রেড রোডে সমস্ত যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সাতদিন এভাবে রাস্তা বন্ধ থাকলে চরম ভোগান্তি হতে পারে বলে কলকাতা পুলিশের নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একটি আইনজীবী সংগঠন কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে সেই মামলার শুনানি ছিল। এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি। সেই সঙ্গে হাইকোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত রেড রোডে যোগ দিবস পালনে কোনও আইনি বাধা নেই। কিন্তু কাজের দিনগুলিতে বিচারপতি ও আইনজীবীদের ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার অনুমতি মিলেছে। অন্যদিকে, রেড রোড বন্ধ থাকার জন্য সাধারণ মানুষের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য পুলিশকে বিকল্প রাস্তা তৈরি করে রাখার কথা জানানো হয়েছে।
এদিন হাইকোর্টের তরফে জানানো হয়, ২১ জুন অনুষ্ঠানের পরেই পুলিশকে রেড রোড খালি করার ব্যবস্থা করতে হবে। এর পাশাপাশি মামলাকারী ও রাজ্যকে কোর্টে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, রাজ্যের সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মচারীদের ২১ জুন যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে হবে। রাজ্যের সমস্ত সরকারি, আধা সরকারি এবং সরকার দ্বারা পরিচালিত সমস্ত কর্মীকেই সেই দিন উপস্থিত থাকতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। সকল কর্মীদের সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নবান্নের একটি নির্দেশিকার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মীদের সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটি হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে সেই মামলার শুনানি ছিল। এদিন হাইকোর্টে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল জানায়, বিশ্ব যোগ দিবসে রেড রোডে সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। আগামী ২১ জুন যে সকল সরকারি কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে চাইবেন, তাঁরা করবেন। অর্থাৎ সরকারি কর্মচারীদের ইচ্ছার উপরেই গোটা বিষয়টা নির্ভর করবে।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে এই মামলার শুনানির সময়ে রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, সারাবছরই রাজ্যে বিভিন্ন দিবস পালন করা হয়। বিশ্ব তামাক দিবস, শিক্ষক দিবস, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মতো অনেককিছু পালন করা হয়ে থাকে। যদিও বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের সেই বক্তব্যের মধ্যেই বিচারপতি অমৃত সিনহা মজার ছলে বলে ওঠেন, এত দিবস বললেন, শুধু ভ্যালেন্টাইন্স ডে-টা বলতে ভুলে গেলেন?
জানা গিয়েছে, শুক্রবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। কারণ রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল এ বিষয়ে সরকারের কাছে কিছু পরামর্শ নেবেন। সেই কারণেই মামলাটির শুনানি শুক্রবার রাখা হয়েছে।