আরও বিপাকে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলা
প্রতিদিন | ১৮ জুন ২০২৬
আরও বিপাকে ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী। এবার তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে নতুন মামলা দায়ের করেছে ফলতা থানার পুলিশ। এদিকে, ফলতা থানা থেকে জাহাঙ্গিরকে ‘অপহরণের চেষ্টা’র অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ফলতায় ‘পুষ্পা’কে ছাড়াতে স্ত্রীর নেতৃত্বে থানায় হামলার পরিকল্পনা করা হয়। ফলতার শতল কলসায় এলাকায় লাগাতার বিক্ষোভ চলে। এরপরই জাহাঙ্গিরের অনুগামীরা ফলতা থানার দিকে এগোতে থাকে। পুলিশ সূত্রে দাবি, তাদের কাছে খবর ছিল, এই ভিড় জাহাঙ্গির খানকে ছিনিয়ে নিতে এবং থানায় তাণ্ডব চালাতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী অ্যাকশন শুরু করে। জাহাঙ্গিরের অনুগামীদের লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে বাহিনী। চলে লাঠিচার্জও। তাড়া খেয়ে পালাতে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। বাঁচার পথ না পেয়ে পুকুরে ঝাঁপ দেন অনেকে। সেই ঘটনার দু’টি সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয় গতকালই। পুলিশ সূত্রে খবর, গোটা ঘটনায় নেতৃত্বে ছিলেন জাহাঙ্গির স্ত্রী। এই হামলা কাণ্ডে জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর নামে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ।
এই ঘটনায় গত বুধবার জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মঙ্গলবার আমি কার্শিয়াংয়ে ছিলাম। টিভিতে দেখলাম ফলতায় মাফিয়ার স্ত্রীর নেতৃত্বে কিছু লোক পুলিশ ও প্যারা মিলিটারিকে আক্রমণ করতে গিয়েছিল। এখানে এসপিকে বলে যাচ্ছি, ভিডিওতে যতগুলোকে দেখা গিয়েছে, কেউ যেন বাড়িতে না থাকে। তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।” তিনি বলেন, “আমি পুলিশমন্ত্রী হিসেবে নির্দেশ দিচ্ছি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের যে ধারা আছে, সেই ধারাতে এমন শিক্ষা দিতে হবে, যাতে কোনওদিন পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আক্রমণ করার সাহস না পায়।” ফলতার মানুষকে আশ্বস্ত করে শুভেন্দু জানান, “যারা হামলা করেছে, তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে চড়ানোর কাজও ডবল ইঞ্জিন সরকার করবে।” মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনেও নতুন মামলা রুজু হয়েছে।