• পর্যটকদের জন্য সুখবর, ফেব্রুয়ারিতেই খুলছে রাক্ষুসে আগুনে ছাই হয়ে যাওয়া হলং বাংলো!
    প্রতিদিন | ১৮ জুন ২০২৬
  • ঠিক তিন বছর আগের দুঃস্বপ্নের রাত। রাক্ষুসে আগুনের গ্রাসে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের মাঝে থাকা শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যের হলং বাংলো। এবার ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের জন্য সুখবর। সব ঠিক থাকলে আগামী বছর ফেব্রুয়ারি,মার্চের আগেই হলং বনবাংলো নির্মাণের কাজ শেষ করে তা পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। যুদ্ধকালীন তৎপরতা চলছে নির্মাণকাজ চালাচ্ছে পূর্ত দপ্তরের নির্মাণ বিভাগ। বৃহস্পতিবার বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ এই নির্মীয়মান বাংলো পরিদর্শনে যান। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের মাদারিহাট এনআইসিতে একটি সমন্বয় বৈঠকও করেন তিনি।

    বৈঠকের শেষে রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ বলেন, “হলং বন বাংলোকে আগের মতো করেই তৈরির কাজ চলছে। নির্মাণ কাজ শেষ করে আমরা আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে এই বনবাংলোকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। আমরা বিভিন্ন রকম প্রস্তাব পেয়েছি। সেগুলো নিয়ে কলকাতায় আলোচনা হবে। আমরা বনাঞ্চলে পর্যটকদের প্রবেশের টিকিট থেকে সাফারির টিকিট সবটাই ডিজিটাল করতে চাইছি। এই জেলায় চাবাগান আর পর্যটন ছাড়া আর অন্য কিছু তেমন করার নেই। সেই কারণে এই দুই ভরকেন্দ্রে ভর দিয়েই জেলাকে ঘুরে দাঁড় করাতে চাইছি আমরা।”

    সেগুন আর পাইনে রূপ পাবে হলং বনবাংলো। একেবারে হুবহু আগের মতো দেখতে হবে এই বাংলোর চেহারা। পুড়ে যাওয়া এই বনবাংলো নির্মাণ করবে পূর্ত দপ্তরের নির্মাণ বিভাগ। তিনতলা এই বনবাংলো তৈরির খরচ ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। প্রথমে কংক্রিটের বাংলো তৈরি করে তারপর শাল, সেগুন আর পাইন কাঠ দিয়ে মুড়ে দেওয়া হবে বাংলোর ভিতর ও বাইরের দিক। যা দেখে কেউ বুঝতেই পারবে না এটা কংক্রিটের তৈরি। কাঠের হলং বনবাংলো নিয়ে দেশি বিদেশি পর্যটকদের আবেগকে মর্যাদা দিতেই এই ব্যবস্থা বলে জানা গিয়েছে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বনবাংলোর ভিতর দিকে থাকবে শালকাঠের ফ্রেমে পাইন কাঠে মোড়া। আর বাইরের দিকে শাল কাঠের ফ্রেমে সেগুন কাঠ দিয়ে মুড়ে দেওয়া হবে। এবার এই বনবাংলোতে আগুন প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।

    উল্লেখ্য ২০২৪ সালের ১৮ জুন রাত নয়টার পর বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের হলং বন বাংলো। পরে তদন্তে জানা যায় ৮ কামড়ার এই বনবাংলোর তিন তলায় ৩ নম্বর ঘরে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে গোটা বাংলো পুড়ে যায়। ১৯৬৭ সালে নির্মিত কাঠের এই বনবাংলোকে রাজ্য পর্যটনের ‘কোহিনূর’বলেন অনেকে। কাঠের এই বন বাংলোকে পুরনো আদলেই কাঠ দিয়ে তৈরির দাবি জানিয়েছিলেন বিভিন্ন পক্ষ। অবশেষে সেই পুরনো আদলেই ফিরছে উত্তরের আবেগ এই বন বাংলো।
  • Link to this news (প্রতিদিন)