আর কত মহিলাকে ‘নির্ভয়া’ হতে হবে? ২০১২ সালে দিল্লির সেই নৃশংস ঘটনার স্মৃতি আরও একবার ফিরে এল বিহারের বেগুসরাই জেলায়। স্বামীকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ এবং তাঁর উপরে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল পাঁচ দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়, ঠিক নির্ভয়ার মতোই এই হতভাগ্য গৃহবধূকে নির্যাতনের ক্ষেত্রেও পৈশাচিকতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে দৃষ্কৃতীরা।
ঘটনার বেশ কয়েকদিন কেটে যাওয়ার পরে নির্যাতিতার যৌনাঙ্গের ভিতর থেকে বের হয়েছে কার্তুজ অর্থাৎ, গুলির খোল, পাথর এবং কাঠের টুকরো। এই গটনার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠে গিয়েছে প্রশ্ন।
নির্যাতিতার অভিযোগ অনুযায়ী, এই নারকীয় ঘটনাটি ঘটেছে গত ১১ জুন রাতে। বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা ওই মহিলা রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ বাড়ির বাইরে শৌচাগারে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে পাঁচ দুষ্কৃতী এসে চড়াও হয় তাঁদের বাড়িতে। মহিলার স্বামীকে একটি ঘরে আটকে দেয় তারা। মহিলা ঘরে ফিরতেই তাঁর মুখ চেপে ধরে তারা একটি নির্জন জায়গায় তুলে নিয়ে যায় তাঁকে।
সেখানে তাঁর হাত-পা বেঁধে, মুখ বন্ধ করে রাতভর পালা করে তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয়। এর পরে তাঁকে ওই অবস্থায় ফেলে রেখে তারা পালিয়েছিল। পরে তাঁর পরিবারের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় মহিলাকে উদ্ধার করে। ১২ জুন সকালে তাঁকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাড়ি ফেরার পরেও অবশ্য নির্যাতিতার পেটে ও যৌনাঙ্গে অসহ্য যন্ত্রণা হতে থাকে। বুধবার (১৭ জুন) তাঁকে ফের বেগুসরাই জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁর আল্ট্রাসাউন্ড এবং এক্স-রে করে দেখেন, তাঁর যৌনাঙ্গে কিছু বস্তু আটকে আছে। বুধবার রাতে অস্ত্রোপচার করে তাঁর শরীর থেকে একটি গুলির খোলের মতো বস্তু, একটি বড় পাথর এবং ধারালো কাঠের টুকরো বের করেছেন চিকিৎসকরা।
এই ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে পুলিশ কী বলছে? বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে বেগুসরাই সদরের DSP, আনন্দ কুমার পাণ্ডে বলেছেন, ‘চিকিৎসার সময়ে নির্যাতিতার শরীর থেকে বেশ কিছু আপত্তিকর বস্তু উদ্ধার হয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ও ফরেনসিক টিমের সাহায্যে এই মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে।’
যদিও নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, ১১ জুন রাতের ওই ঘটনার পরপরই পুলিশকে জানানো হলেও প্রাথমিক ভাবে তারা কোনও পদক্ষেপই করেনি। অথচ, নির্যাতিতার দাবি অভিযুক্তরা ওই গ্রামেরই বাসিন্দা এবং তিন মাস আগেও তারা তাঁর ঘরে ঢুকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছিল। এ দিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা সকলেই পলাতক। তাদের সন্ধানে ওই এলাকার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।