ছেলে বিধায়ক হয়ে গিয়েছেন ঠিকই। তা বলে কি নিজের শিকড় ভোলা যায়! তাই এখনও চা-চপ বিক্রি করেই দিন কাটাচ্ছেন বাবা। আগের মতোই তিনি রোজ দোকান খোলেন। দোকানে সাজিয়ে বসেন ছোলা সেদ্ধ-ডিম সেদ্ধ, চপ-ঘুগনি আরও কত কী। আর এই সব জিনিস বেচতে বেচতে পাড়ার লোকেদের কাছে এখন শুধু ছেলেরই গল্প করে যান বীরভূমের সাঁঁইথিয়ার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহার বাবা আনন্দ সাহা।
আনন্দ জানান, মহম্মদবাজারে তাঁদের এই দোকান দীর্ঘদিনের। বাবা-ঠাকুরদার সময় থেকে এই দোকান চলে আসছে। তাই যতদিন শরীর রয়েছে, তত দিন এই দোকানও থাকবে। আনন্দের কথায়, ‘আমার ভাইদের দোকান রয়েছে। এই দোকানটা আমি চালাই। ১- জনের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়, সুখ-দুঃখের গল্প হয়। আমি তো নিজের অতীতটা ভুলতে পারব না।’
তা ছাড়া আনন্দের বক্তব্য, ছেলে বিধায়ক হওয়ার পরে তিনি এখন আর শুধু তাঁর ছেলে নন। তিনি এখন জনগণের ছেলে। কৃষ্ণকান্তের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে বিধায়ক হয়েছে। মানুষের জন্য কাজ করবে, আমি এতেই খুশি। তবে যে দিন থেকে সে বিধায়ক হয়েছে, সে দিন থেকে সে আর আমার ছেলে নয়, সে জনগণের ছেলে। ওর কাছে আমার শুধু একটাই চাওয়া, সে যেন গরিব খেটেখাওয়া মানুষদের উপকার করে।’
আনন্দের এ ভাবে মাটি আঁকড়ে থাকা দেখে আপ্লুত পাড়ার লোকেরাও। স্থানীয় বাসিন্দা উদয় মণ্ডল বলেন, ‘এই ছবি আজকের দিনে সত্যিই বিরল। এত দিন আমরা দেখেছি, সামান্য পঞ্চায়েত সদস্য বা প্রধান হলেই তাদের পরিবারের চালচলন বদলে যেত। সেখানে একজন বিধায়কের বাবা হয়েও যে উনি নিজের পা মাটিতেই রেখেছেন বা নিজের অতীতটাকে ভুলে যাননি, এটা শিক্ষনীয়।’